এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুকের জামিন মঞ্জুর

এস এম এইচ আই ফারুক

এস এম এইচ আই ফারুক

বনানীর ফারুক রুপায়ন (এফআর) টাওয়ার নির্মাণে দুর্নীতি মামলায় টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। নকশা জালিয়াতির মামলায় সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গুলশান এলাকা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে দুদক।

এ সময় তার জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট বাহার উদ্দিন। জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের স্পেশাল পিপি মোশারফ হোসেন কাজল। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে এফআর টাওয়ার মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যান এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির সাতটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অপর মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা অনুমোদন থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ লঙ্ঘন করে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অভিযোগ আনা হয় হয়। এই মামলায় দণ্ডবিধির চারটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে নিহত হন ২৬ জন। শতাধিক আহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই বনানীর এফআর টাওয়ার নকশা অনুমোদনে জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

ফারুক হোসেন ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন ১০ কাঠা জায়গায় ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকে আবেদন করেন। তবে প্রথম ১৫ তলার অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে ১৮ তলা পর্যন্ত ভবন সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু ২০০৫ সালে ১৮ তলার উপর অবৈধভাবে ২৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়।

একই ঘটনায় দায়ের হওয়া পেনাল কোডের মামলায় গত ৩০ মার্চ আটক হয়েছিলেন তাজভীর। ৩১ মার্চ তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নেন পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১১ এপ্রিল তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকেই জামিন পান।

একই সময়ে গ্রেফতার হন জমির মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক। তিনি এক মাস পাঁচ দিন কারাভোগের পর ৬ মে জামিন পান। গত ২৩ জুন আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জামিন পান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল। তবে দুদকের মামলায় তিনি পলাতক আছেন।

পাঠকের মন্তব্য