সেই ভয় যেন ছাড়চ্ছে না জজ মিয়ার পিছু 

সেই ভয় যেন ছাড়চ্ছে না জজ মিয়ার পিছু 

সেই ভয় যেন ছাড়চ্ছে না জজ মিয়ার পিছু 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনার ১৫ বছরেও ভয় কাটেনি জজ মিয়ার মন থেকে। এই ভয়, অভাব-অনটনের সংসার ও নিজের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু না পাওয়ার বেদনা নিয়ে জীবন পার করছেন তিনি। কবে এসব দূর হবে- জানা নেই আলোচিত চরিত্র জজ মিয়ার।

জজ মিয়া বলেন, ‘এই ভয় যাবে না ভাই। আমি ও আমার পরিবার ছিল রাজসাক্ষী। আসামিরা তো জামিনে। তারা নিজেরা আইসা না পারুক, কাউরে দিয়াও তো ক্ষতি করতে পারে।’

১৮ মাস আগে তার মা জোবেদা খাতুনের মৃত্যু হয়। তিনি কিডনি জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগেছেন। মায়ের চিকিৎসার অর্থ যোগান দিতে গিয়ে জজ মিয়া তার আয়ের প্রধান অবলম্বন প্রাইভেট কার বিক্রয় করতে বাধ্য হন। তবুও মাকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। বর্তমানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন গালফ গ্রুপে।

জজ মিয়ার ভাষায়, ‘হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার যা করছে, আমারে তা করে নাই। আমার জীবন থেইকা অনেক সময় হারায়ে গেল। আমি সাক্ষী হইলাম, সাক্ষী হইলাম। অন্তত, আমারে পুনর্বাসন করা তো দরকার ছিল। এই যে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাই, এইটা দিয়া ভালমতন চলা যায়? ঠেইকা করতাসি, নাসিম স্যার (সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম) এই চাকরি নিয়া দিসিলো। তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা’ সম্বোধন করে আবদারের সুরে তিনি বলেন, ‘আমি একটাবার আমার মা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে চাই।’

বর্তমানে জজ মিয়া এক কন্যা সন্তানের পিতা। কন্যার নাম জাহানারা আক্তার সুমাইয়া, বয়স ৮ মাস। স্ত্রী, ছোট বোন খোরশেদা, সন্তানসহ থাকেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি এলাকায়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আড়াইশর বেশি মানুষ। এ মামলা তদন্তের একপর্যায়ে ২০০৫ সালের ৯ জুন পুলিশ জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। নির্যাতন চালিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে তাকে বাধ্য করা হয়। 

পাঠকের মন্তব্য