বীর উওম সিরাজ হত্যাকান্ড !

বীর উওম সিরাজ হত্যাকান্ড !

বীর উওম সিরাজ হত্যাকান্ড !

শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান পুত্র আওয়ামীলীগ নেতার নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা

আবেগ রহমান : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রয়াত শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান পুত্র ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সে উপজেলা সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। 

বুধবার অভিযুক্ত আসামী নিজেকে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, কথিত প্রেসক্লাব সভাপতি, জাতীয় দৈনিক, সুনামগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক, সিলেটের আঞ্চলনিক ও একাধিক অনলাইন নিউজপোর্টালের তাহিরপুর প্রতিনিধি দাবি করেছেন। অপরদিকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর জোন আমল গ্রহনকারি বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের অউটা গ্রামের প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজাফর আলী।

ওই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে উপজেলার গোলকপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রৌফ সহ একাধিক বীরমুক্তিযোদ্ধাগণকে। মামলার অভিযোগে বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত আসামি আমিনুল ইসলাম চিহ্নিত খুনি, লুটেরা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবারের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার পিতার নেতৃত্বে তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। 

অভিযুক্তর বাবা মৃত আব্দুল মালিক ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তৎকালীন সময়ে আব্দুল মালিক শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে পিতার আর্শীবাদপৃষ্ঠ হয়ে আসামি আমিনুল ইসলাম নিজেও শান্তি কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পাক বাহিনীর সোর্সের দায়িত্ব পালন করত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, একাত্তরের ৭ জুলাই পাক বাহিনীর সঙ্গে ৫নং সেক্টরের ট্যাকেরঘাট ৪নং সাব সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক বাহিনীর গুলাগুলির সময় পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে আমিনুল ইসলাম ও তার পিতা আব্দুল মালিক উপস্থিত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ শিক্ষার্থী সিরাজুল হককে গুলি করে হত্যায় সহযোগীতা করে। সিরাজ হত্যার পর পাক বাহিনীকে আরো ব্যাপক লুপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডে উৎসাহিত করতে  অভিযুক্ত পিতা পুত্রকে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সেই সাথে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অভিযুক্তর পিতা আব্দুল মালিক ব্যাংক ম্যানেজারে স্বর্নালঙ্কার চুরি ও লুপাটের দায়ে তাহিরপুর থানায় মামলা হয়। 

মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ আব্দুল মালিককে সেই সময় আটক করে জনসম্মুখে গাছে বেঁধে মারপিট করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক পাক বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শাহাদৎ বরণ করলে সরকার তাকে বীর উরম উপাধীতে ভুষিত করেন। উপজেলার ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পে শহীদ সিরাজ বীর উওমের সমাধীস্থল রয়েছে। তার সম্মানে ট্যাকেরঘাট প্রকল্পে থাকা পাহাড়ঘেষা একটি পতিত কোয়ারীকে একটি জাতীয় দৈনিকের  সংবাদকর্মী শহীদ সিরাজ লেক নামে নামকরণের পর পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন নাম করণের সীকৃতি প্রদান করেন। ট্যাকেরঘাট প্রকল্পে শহীদ সিরাজ স্মৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। 

বুধবার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম এবং নাসির আফেন্দী জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যার্থে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের আদেশ দেন।

মামলার অপর সাক্ষী উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জুনাব আলী, নালেরবন্দ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী, মন্দিয়াতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, কাউকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা করম আলী অভিযোগ করেন, আমিনুল তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ৭১’ সালে মানবধাবিরোধী অপরাধ ধামাচাঁপা দিতে  শহীদ সিরাজ  হত্যাকান্ডকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে নিজেকে উপজেলা আওয়ামীলীগে অনপ্রবেশ করিয়ে লুপাট বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্রাইমে জড়িয়ে পদে। এরপর নিজের খুটি শক্ত করতে একটি জাতীয় দৈনিক, সুনামগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক, সিলেটের আঞ্চলিক ও একাধিক অনলাইন নিউজপোর্টালের তাহিরপুর প্রতিনিধি ও  কথিত প্রেসক্লাব সভাপতি দাবির আড়ালে নিজের আওয়ামীলীগে কোন্দল, গ্রুপিং  তৈরী করা, মূল ধারা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সাংবাদিকদেও নামে মিথ্যাচার, হয়রানীকরানো, উস্কানি দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা, অবাধ দুর্নীতি, লুপাট,চাঁদাবাজি, প্রশাসন সহ থানায় মামলার দালালী, নিজ ও তার অনুসারীদের সার্থে ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে নিজের অপরাধ সা¤্রাজ্যকে আরো পাকাপোক্ত করেছে।

পাঠকের মন্তব্য