রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতায় বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতায় বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতায় বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেছে মিয়ানমার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিউ লাইট অব মিয়ানমার বলছে, সম্ভাব্য প্রত্যাগমণকারীদের কাছে ‘ভেরিফিকেশন ফর্ম’ বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। অভিযোগ তোলা হয়েছে, চারশোর বেশি হিন্দু শরনার্থীকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি ঢাকা। তবে প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের এক সদস্য বলেছেন, কোনও রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত গেলে সে নিপীড়নের পরিস্থিতিতে ফিরবে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ। দ্বিতীয় দফায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় গত ২২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)। তবে এবারেও ফিরে যায়নি কোনও রোহিঙ্গা।

এবারও কোনও রোহিঙ্গা ফেরত না যাওয়ায় শুক্রবার বাংলাদেশের ওপর দায় চাপায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিউ লাইট অব মিয়ানমার বলছে, ‘বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বচ্ছন্দ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রয়োজন’।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রত্যাগমনকারীকের কাছে সঠিক কাগজপত্র বিতরণ করতে না পারার অভিযোগ তোলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয় বাংলাদেশ ‘ভেরিফেকেশন ফর্ম’ যথাযথ ব্যক্তিদের কাছে বিতরণ করেতে পারেনি। তবে বিতর্কিত এই ফর্ম পূরণ করা হলেও তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন ও জাপান সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই মাসের শুরুতে চীন সরকার নিশ্চিত করে যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার কোনও রোহিঙ্গা ফেরত না যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোনেম। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের দাবি আদায়ে বাংলাদেশকে জিম্মি করছে রোহিঙ্গারা।

তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনও প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়। আর জাতিসংঘের এক তদন্তকারী বলছেন ২০১৭ সালে গণহত্যার উদ্দেশেই নিপীড়ন চালিয়েছিল মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলরা। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি এই সপ্তাহে বলেছেন, ‘মিয়ানমারে কোনও রোহিঙ্গা ফেরত গেলে তারা নিপীড়নের পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

পাঠকের মন্তব্য