উলিপুরে সরকারি কাজে বাধা দান, কৃষি অফিসার হুমকিতে

উলিপুরে সরকারি কাজে বাধা দান, উপজেলা কৃষি অফিসার হুমকিতে

উলিপুরে সরকারি কাজে বাধা দান, উপজেলা কৃষি অফিসার হুমকিতে

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা উপঃসহঃ কৃষি অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী যারা প্রায়ই সাংবাদিক পরিচয়ে অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমস্যা তৈরি করে তাদের দ্বারা সরকারি কাজে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত ও মারপিট করার অভিযোগ এনে উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামার বাড়ি কুড়িগ্রামকে অবহিত করে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গত ১১/০৮/১৯ইং উলিপুর থানায় একটি এজাহার করেন। উলিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন ঈদের ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত আনোয়ারুল ইসলাম অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এজাহার গ্রহণ করে উলিপুর থানা মামলা নং-১২/২২৩, তাং- ১১/০৮/১৯ ইং। পরের দিন অভিযান পরিচালনা করে আসামী আঃ রহিম সাং- তবকপুরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু উলিপুর পৌরসভায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামীদ্বয় আপন মামা ভাগিনা মিজানুর রহমান লিটন ও ফিরোজ কবীর কাজল রয়ে গেছেন ধরা ছোয়ার বাইরে।
 
বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মুল আসামীগণ সদর্পে শহরে ও উপজেলা অফিসে ঘোরাফেরাসহ নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও তাদের গ্রেফতারে উলিপুর থানা পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা। এ সুযোগে আসামীগণ নিজে ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ফিরোজ কবীর কাজল,  মুসা মোর্শেদ ও মার্শাল আর্থ  নামক নিজস্ব আইডি ও বেনামী আইডি থেকে বাদী ও বাদীর পরিবার বন্ধুবান্ধব এবং অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা ও অফিসের কার্যক্রম নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ভয়ভীতি ও মানহানিকর মন্তব্য করে চলেছেন । আসামীগণের ঔদ্ধত্য আচরণ ও গ্রেফতার বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের, উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেছেন বলে উভয় কর্মকর্তা বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছেন বলে জানালেও মুল সমস্যা মামলার আয়ু মোঃ সরদার আরমান সদ্য উলিপুর থানায় যোগদান করেছেন এবং তিনি
 
এলাকার রাস্তাঘাট লোকজন আসামী ও তাদের বাড়িঘর সম্পর্কে কিছুই চিনেন না বলে স্পষ্ট হওয়া গেছে এবং এস আই সরদার আরমান ও অফিসার ইনচার্জ  নিজেও এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় সদ্য যোগদানকারী পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া কর্মে বিঘœ ও বিলম্ব হওয়াটা স্বাভাবিক মন্তব্য করেছেন।

অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন এবং চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন কার্যত কিছুই হচ্ছেনা বরং আসামীদের দাপটের মাত্রা বারছে। অন্যদিকে গোপন সুত্রে জানা গেছে উলিপুর থানা ওসি তদন্ত আনোয়ারুল ইসলামের সাথে আসামীদের সখ্যতা রয়েছে, হয়তো সেদিকে বিবেচনা করে এহেন গুরুত্বপূর্ণ মামলা একজন সদ্য যোগদানকারী পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন যাতে আসামীরা সুবিধা পান।
 
এমন ধারনা সংশ্লিষ্ট অনেকেই  করছেন। তবে তথ্যসুত্রে বাস্তবতা হলো সবসময় সকল অন্যায় কিন্তু সবসময় ভুক্তভোগী সকলে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেননা কিংবা চাকুরীর কথা ভেবে মানসম্মান চিন্তা করে আজীবন সন্ত্রাসী চাদাবাজদের প্রশ্রয় দেন ফলে সমাজে এ ধরনের একটা অপসংস্কৃতি জেকে বসেছে। সেখানে কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন সৎসাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেও যদি সঠিক আইনি সহায়তা না পান তবে তা দুঃখজনক বলেছে উলিপুর প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ।
 
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম ০৬/০৮/১৯ইং এক পত্র মতে উলিপুর  উপজেলায় ১৪টি  কমিউনিটি বীজতলার বন্টক অনুযায়ী স্থাপনের  বিভাজন মোতাবেক বীজতলা স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন। ঈদের আগেই জরুরী ভিত্তিতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে  বীজ বিতরণের কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বিএস আলমগীর হোসেন গত ১০/০৮/১৯ ইং বিকেলে তার বন্টকের বীজ কৃষকসহ উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার পথে  সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মিজানুর রহমান লিটন ও ফিরোজ কবীর কাজলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে লাঞ্চিত, মারপিট করে এবং তা দেখে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীগণ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের একজন লিটনকে  আটকে রাখে এবং পরবর্তীসময়ে লিটন ও কাজলের নিকটাত্মীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।

কৃষি অফিসার আলমগীর উলিপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

পাঠকের মন্তব্য