ওসির উপস্থিতিতে অবরসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনার জমি দখল, আহত-২

ওসির উপস্থিতিতে অবরসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনার জমি দখল, হামলায় আহত-২

ওসির উপস্থিতিতে অবরসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনার জমি দখল, হামলায় আহত-২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ওসির উপস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত এক অসহায় নৌ-সেনার জমি জবর-দখল করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাঁধা প্রদান করায় সাবেক নৌ-সেনা ও তার পুত্রকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম করে ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী। বর্তমান আহত পিতা ও পুত্র কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইখেরছড়া গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকার আলিমুদ্দিনের কাছ থেকে গত ১৮/০৭/১৯৮৯ ইং তারিখে ১০ শতক জমি ক্রয় করে একই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনা মোঃ আবুল হোসেন। দীর্ঘদিন পর আলিমুদ্দিন আবারো গোপনে ওই এলাকার প্রভাবশালী হাবিবুল্লাহ মেজবাহ নামের ব্যক্তির কাছে পুনরায় ২১ শতক জমি বিক্রয় করে। ভূয়া কাগজপত্র বলে প্রভাবশালী হাবিবুল্লাহ মেজবাহ অবসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনা মোঃ আবুল হোসেনের জমি গত ২১/০৮/২০১৯ ইং তারিখে পুলিশের উপস্থিতিতে ৭০/৮০ জনের একটি ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আবুল হোসেনের ক্রয় করা ১০ শতক জমির মধ্যে ৫ শতক জমি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করে। এতে আবুল হোসেন ও তার ছেলে আরিফ হোসেন ফুয়াদ বাঁধা দিলে হাবিবুল্লাহ মেজবাহ গং তাদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। পরে এলাকাবাসী তাদের আত্মচিৎকারে দৌঁড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের উভয়কে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানায় আরিফ হোসেন ফুয়াদের মাথায় থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা বেগতিক। 

এলাকাবাসী মোঃ আব্দুল মোত্তালেব, শরিফুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান ও আবু বক্কর সিদ্দিক জানায়, প্রভাবশালী হাবিবুল্লাহ মেজবাহ অবৈধভাবে জমি দখল করলেও পুলিশকে দিয়ে উল্টো প্রকৃত জমির মালিক আবুল হোসেন ও ছেলেকে চুরি মামলা ফাঁসাতে পুলিশী নাটক সাজায়। তারা আরও জানায়, জমি দখলের সময় উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবীর, এসআই জালাল, এসআই রুবেল। 

এ ব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত নৌ-সেনা আবুল হোসেন বলেন আমি ন্যায় বিচারের জন্য এসপি মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

পুলিশের উপস্থিতিতে নৌ-সেনা আবুল হোসেনের জমি জবর দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবীর তার উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পাঠকের মন্তব্য