ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকা

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বাংলাদেশি

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বাংলাদেশি

৮০ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি আছে ইন্টারপোলে। এদের প্রায় সবাইকে বাংলাদেশ খুঁজলেও কাউকে কাউকে অন্য দেশও খুঁজছে। কাউকে আবার একইসঙ্গে বাংলাদেশসহ অন্য দেশের নাগরিক হিসেবেও দেখাচ্ছে ইন্টারপোলের নোটিস বোর্ড। এদের সবাই পুরুষ। প্রায় সবার বিরুদ্ধেই হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আছে। অপরাধের দণ্ড কার্যকর করতে অথবা অভিযোগের বিচার করতে এদের খোঁজা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া যুদ্ধাপরাধীও রয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ জনের ছবি রয়েছে ইন্টারপোলের রেড এলার্ট দেয়া নোটিস বোর্ডে।

ইন্টারপোলের তথ্যানুসারে খান আলিম উদ্দিনের বর্তমান বয়স ৫২ বছর। জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে। তবে তাকে একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবার এই দুই দেশের কোনো দেশই তাকে খুঁজছে না। তাকে খুঁজছে কানাডা। কুমিল্লার হানিফকে খুঁজছে মালদ্বীপ। সম্পদ আত্মসাতের এক মামলায় তাকে খোঁজা হচ্ছে।তথ্যসুত্র- জাগরণ 

সম্প্রতি আব্দুল জাব্বার ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড এলার্ট জারি করার প্রেক্ষিতে বিষয়টি বেশ কয়েকবার আলোচনায় আসে। তাদের দুজনের ছবি পাশাপাশিই ছিল। আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যায় অভিযুক্ত তারেক রহমানের ছবি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জাব্বারের ছবি পাশাপাশি থাকলেও সম্প্রতি তা আলাদা করা হয়। ইন্টারপোলে তারেকের ছবির পাশে জব্বারের (বাংলাদেশের যাদের নামে রেড এলার্ট আছে, শুধুমাত্র তাদের ছবি সম্বলিত) ছবি দেখা যায়। তবে সম্প্রতি তারেক রহমানের ছবি ও তথ্য ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। 

ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ যাদের খুঁজছে তাদের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলার আসামি। জানা গেছে, তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে প্রকাশ্যে জীবনযাপন করছে। কিন্তু তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না, তাই বিচারবঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। কার্যকর হচ্ছে না আদালতের রায়। আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মারপ্যাঁচে আটকে আছে তাদের কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। আবার কাউকে দেশে ফেরাতে কোনো উদ্যোগই নেই।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিদেশে পলাতক যেকোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে থাকে ওই দেশের পুলিশ। তখন ইন্টারপোল সংশ্লিষ্ট আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ওই দেশকে জানায়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আসামিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া গ্রহণ করে ওই দেশ। তবে রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের এখতিয়ার ইন্টারপোলের নেই। এ ক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রে আসামি পলাতক, সেই রাষ্ট্র এবং যে রাষ্ট্র খুঁজছে, সেই রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর অনেকটা নির্ভর করে দেশে ফেরানো বা হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

যে ৮০ জনের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ খুনির মধ্যে এএম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে, নূর চৌধুরী কানাডায় এবং আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন ভারতে বলে তথ্য রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। শরীফুল হক ডালিম এবং খন্দকার আব্দুর রশিদ পাকিস্তানে বলে মনে করে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা। রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তা এখনো আশ্বাস হিসেবেই রয়ে গেছে। দুর্বল আইনি লড়াইয়ের কারণে ফেরানো যাচ্ছে না কানাডায় থাকা নূর চৌধুরীকেও।

মডেল কন্যা তিন্নি হত্যা মামলার আসামি, আশির দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা ও সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভির মাথার ওপরও ঝুলছে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট। 

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। ফাঁসির আদেশ হওয়ার আগেই ২০১২ সালের ৩০ মার্চ গোয়েন্দা নজর এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পাকিস্তানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি উত্তরাঞ্চলের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে বাচ্চু রাজাকারের অবস্থান পাকিস্তানে বলে জানা গেছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা তাজউদ্দিনকে ধরতে ২০০৭ সালে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট ইস্যু করা হয়। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পলাতক জীবনযাপন করছেন। সেখানে তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে ইন্টারপোলের দক্ষিণ আফ্রিকা শাখা।

গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেশিরভাগই পালিয়ে আছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ এবং সুব্রত বাইন ভারতের কারাগারে বন্দি। অন্যরা আছে প্রকাশ্যে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়, সালাউদ্দিন মিন্টু, আবদুল জব্বার ওরফে মুন্না, নবীর হোসেন ওরফে নবী, শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাসের ভাই প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, হারুন শেখ, সুজিত সুলতান, তৌফিক আলম, নাসির উদ্দিন রতন, হারিস আহমেদ, খোরশেদ আলম, শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শাহাদাত হোসেন ওরফে শাহাদত, চান মিয়া, মিন্টু, স্বপন মালাকার, আমিনুর রহমান, ওমর ফারুক ওরফে কচি, রফিকুল ইসলাম ওরফে কাজল, দীপু ওরফে নুরুল, আহমেদ মঞ্জু এবং মকবুল হোসেন অন্যতম। দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বর্তমানে দুবাই আছে। আমিন রসুল ওরফে টোকাই সাগর আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

পাঠকের মন্তব্য