চোখের জলে গাজীপুরে জাতির জনকের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

চোখের জলে গাজীপুরে জাতির জনকের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

চোখের জলে গাজীপুরে জাতির জনকের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল, এই দিনে প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এদিন রচিত হয় ইতিহাসের নির্মম নিষ্ঠুর জঘন্যতম ঘৃণ্য কলঙ্কিত এক হত্যা যজ্ঞের। শিশু রাসেলকে লুকিয়ে রেখে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অসুরদের চোখকে ফাঁকি দেয়া সম্ভব হয় নি। জল্লাদদের হাত জোড় করে রাসেল মিনতি করেছিল- আমাকে হাসু আপার (হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দিন, আমাকে মারবেন না। চোখের সামনে রক্তে ভাষা তার আপনজনদের সারি সারি লাশ। প্রচন্ড গুলাগুলির শব্দে ভীত- শিশু শেষ আকুতি জানালো-‘আমি মায়ের কাছে যাবো’। নিষ্ঠুর জল্লাদদের অন্তরে কোন ভাবান্তর নাই, মনে বিন্দুমাত্র করুণার উদ্রেক হলোনা, মুহুর্তেই ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় রাসেলের সারা দেহ। তারা ঠান্ডা মাথায় হত্যা করলো নিরপরাধ শিশুটিকে। 

শনিবার গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ কান্না জরিত কন্ঠে এইভাবে ঘৃণ্য কলঙ্কিত হত্যা যজ্ঞের বর্ননা দেন।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক আলহাজ রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ মো: মোশারফ হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো: হাবিবুর রহমান খান, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. সামসুল আলম প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ এড. মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এড. রীনা পারভীন, আওয়ামী লীগে নেতা হারুন অর রশিদ বিএসসি প্রমুখ।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে স্মরণসভা স্থানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা “জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগানে উপস্থিত হতে থাকে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হওয়ার আগেই স্মরণ সভা স্থানটি জনসমুদ্রে পরিনত হয়। গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ বিএসসির নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী সাদা গেঞ্জি পরিহিত হলুদ ক্যাব পরিহিত অবস্থায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন।

স্মরণ সভার সভাপতি আলহাজ রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ উল্লেখ করে বলেন, সেদিন নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, তাঁর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল, কনিষ্ঠ শিশু পুত্র শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৬ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হন। তার বিবরন শুনে মঞ্চে উপস্থিত নেতারাসহ স্মরণ সভায় যোগদেয়া হাজার হাজার নারী পুরুষ অনেককে চোখ মুছতে দেখা যায়। পরে সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুসহ নিহত পরিবারের সকল সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া শেখে গণভোজের আয়োজন করাহয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে প্রধান অতিথি বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

পাঠকের মন্তব্য