বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি সহায়তা দেবে সরকার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি সহায়তা দেবে সরকার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি সহায়তা দেবে সরকার

এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার সহায়তা দেবে সরকার৷ পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মৌসুমী ফসল চাষাবাদের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের এই সহায়তা দেওয়া হবে৷ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সনৎ কুমার জানান, এবারের বন্যায় সারা দেশে ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ কৃষকদের এই ক্ষতি পোষাতে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে৷

‘‘দরিদ্র্ কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার দেয়া হবে৷ মৌসুমভিত্তিক আউশ, আমন, বোরো, সরিষা, সূর্যমূখী, ভুট্টা, তিলসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য বীজ, সার ও নগদ অর্থ দেয়া হবে৷ এই কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে৷‘‘

এবারের বন্যা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘২০১৯–এর মৌসুমি বন্যা: যৌথ চাহিদার সম্ভাব্যতা' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস পর আগস্টের শুরুতে সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামে৷ বন্যায় দেশের ৬ হাজার ৮৬৭টি গ্রামের ৭৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এরমধ্যে সাড়ে তিন লাখ হতদরিদ্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮টি জেলায় বন্যার পানি উঠলেও আট জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে৷ বন্যার কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়৷ আর নদীভাঙনের ফলে এক হাজার ৬৫৪টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে৷ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, এবার বন্যার্তদের ৩০ হাজার মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীনে থাকা অবকাঠামো মেরামত, সংস্কার বা পুননির্মাণের কাজ শুরু করেছে৷

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পর ঠিক সময়ে কৃষকদের বিভিন্ন ফসলের চারা সরবারহ করতে ৭৫ একর জমিতে সরকারিভাবে বীজতলা করা হচ্ছে৷ এছাড়া কৃষকদের নিজস্ব জমিতে বীজ ও সার দিয়ে বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে৷ এর বাইরে আড়াই হাজার ভাসমান বীজতলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

ধান গবেষণা ইনস্টিটউট বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের করণীয় নিয়ে সম্প্রতি একগুচ্ছ পরামর্শ রেখেছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, কচুরিপানা ও মাটি দিয়ে কলার ভেলায় বীজতলা তৈরি, স্বল্প জীবনকালীন জাতের ধান যেমন- ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭১ এবং ব্রি ধান৭৫ আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপন করা যাবে৷ এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত আলোক সংবেদনশীল উফশী জাত যেমন- ব্রিআর৫, বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৪৬ জাতগুলো ১৫ আগস্টের মধ্যে বীজতলায় চারা উৎপাদন করে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বপন করা যাবে৷

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘‘বন্যার সময় আমন ধানের বীজ মাঠে থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়৷ তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ধানের বীজতলা করে দেওয়া হয়েছে৷

‘‘সবজি যা নষ্ট হয়েছে তানিয়ে কিছু করার নেই৷ তবে রবি মৌসুমে কৃষকদের আমরা পুষিয়ে দেব৷ মাসকালাই চাষের জন্য কৃষকদের বীজ দেওয়া হয়েছে৷ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও সবজির বীজও দেওয়া হবে৷''

এবারের বন্যায় কৃষিতে যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সরকারের কাছ থেকে প্রণেদনা পাওয়ার পর কৃষকরা তা পুষিয়ে ফেলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন কৃষিসচিব৷

পাঠকের মন্তব্য