নাম বদলের রাজনীতিতে বিএনপি জোট সরকারের ছিল মহোৎসব 

নাম বদলের রাজনীতিতে বিএনপি জোট সরকারের ছিল মহোৎসব 

নাম বদলের রাজনীতিতে বিএনপি জোট সরকারের ছিল মহোৎসব 

বিএনপিই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নাম বদলের রাজনীতি চালু করেছিলো। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া প্রায় দু'শ' থেকে আড়াইশ' প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। 

সম্প্রতি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক একটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কাল থেকে অনেকেই দেখছি নাকের জলে চোখের জলে এক করে ফেলছেন ! অনেকেই আবার বিড়াল কন্ঠে হালুম বলে হুংকার দিচ্ছেন ! অনেকেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণের জানান দিচ্ছেন ! জনাব হৃদয়ে কি শুধু আপনাদেরই রক্তক্ষরণ হয়! আর কারো হয় না ?

দেশে নাম পরিবর্তনের রাজনীতিতে জামায়াত বিএনপি জোট সরকারের ছিল মহোৎসব। নাম বদলের নামে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় নেতাদের প্রতি প্রতিহিংসা এবং নোংরা রাজনীতির মহাগুরু বিএনপি জামায়ত জোট নেত্রী বেগম জিয়া৷৷ 

কেলোর কীর্তির উল্ল্যেখযোগ্য ইতিহাসগুলো একটু দেখে নিন- 

  1. জোট সরকার আমলে ২০০১ সালের অক্টোবরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানের নাম বদলে রাখা হয় জিয়া উদ্যান।
  2. কিছুদিন পর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র।
  3. ২০০২ সালে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতীয় যুব কেন্দ্র।
  4. একই বছর ধানমন্ডিতে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করে ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স।
  5. খুলনায় শেখ নাসের স্টেডিয়ামের নাম বদলে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম।
  6. চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের নাম বদলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম রাখা হয়।
  7. ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় যমুনা সেতু।
  8. ঢাকায় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মওলানা ভাসানী নভোথিয়েটার।
  9. ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম শাহ আমানত বিমানবন্দর রাখা হয়।
  10. ভৈরবে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু।
  11. একইভাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম।
  12. শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম।
  13. সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী অডিটরিয়ামের নাম বদলে রাখা হয় ভাষা শহীদ অডিটরিয়াম।
  14. শাহবাগে সুফিয়া কামাল পাবলিক লাইব্রেরীর নাম বদলে বাংলাদেশ গণগ্রন্থাগার রাখা হয়।
  15. জোট আমলে পরিবর্তনের এই ধারা থেকে পুলিশের মনোগ্রামও বাদ যায়নি। পুলিশের মনোগ্রাম একপাশে ধানের শীষ, অপর পাশে গমের শীষ, মাঝখানে নৌকা এবং উপরিভাগে শাপলা ফুল বেষ্টিত ছিল। জোট সরকার পুলিশের মনোগ্রাম থেকে নৌকা বাদ দিয়েছিল।
  16. আবার জোট সরকারের আমলে সংকীর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম বিকৃত করে স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছিল। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামালের নাম পরিবর্তন করে শহীদ সিপাহী মোস্তফা স্টেডিয়াম রাখা হয়।
  17. ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নাম বদলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের নামেই হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজের নামকরণ করেন।
  18. জাতীয় নেতাদের নাম পরিবর্তন করে দলীয় নেতাদের নামে নতুন নামকরণের প্রতিযোগিতায় নামে জোট সরকার। জোটের মন্ত্রীরাও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে জোটের প্রয়াত প্রভাবশালী সাবেক একমন্ত্রীর নামে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।
  19. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে মরহুম জাতীয় নেতাদের নামের স্থাপনার পরিবর্তনের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল তৎকালীন সরকার। এমনকি নামকরণ প্রসঙ্গে জাতীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করতে পিছপা হয়নি ততকালীন জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
  20. আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন প্রথমে আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান। জিয়াকে স্বাধীনতার মিথ্যা ঘোষক প্রমাণ করার জন্য এম এ হান্নানের নাম মুছে দিতে চট্টগ্রামের এম এ হান্নান বিমানবন্দর এর নাম পরিবর্তন করে আমানত শাহ্‌ বিমানবন্দর রাখা হয়।

ইতিহাস সাক্ষী, অন্যের নাম মুছে দেয়ার পায়তারা করলে নিজেরাই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে ।

পাঠকের মন্তব্য