ছোটবোনের বাল্যবিবাহ যেভাবে ঠেকালেন কলেজ পড়–য়া ভাই  

ছোটবোনের বাল্যবিবাহ যেভাবে ঠেকালেন কলেজ পড়–য়া ভাই  

ছোটবোনের বাল্যবিবাহ যেভাবে ঠেকালেন কলেজ পড়–য়া ভাই  

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় মাধ্যমিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া ছোট বোনের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে এবার নিজেই এগিয়ে আসলেন কলেজ পড়–য়া সহোদর বড় ভাই।,
সিলেটের একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নিজ তৎপরতায় ছোট বোনের বাল্য বিবাহ ঠেকাতে পেরে উপজেলার নানা শ্রেণির পেশার লোকজনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

জানা গেছে, জেলার ধর্মপাশার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাধ্যমিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া ১৩ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের সাথে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের পারিবারীক সম্মতিতে রোববার বেলা ২টায় বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। 

সম্ভাবনাময় শিক্ষা জীবন ঝড়ে যাবে এ শংকায় স্কুল ছাত্রী ও তার কলেজ পড়–য়া বড় ভাই এ বিয়েতে বেঁকে বসলেও অভিভাবক নাঁছোর বান্দা। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে না দেয়ার জন্য কলেজ শিক্ষার্থী নিজে ও স্বজনদের নিয়ে ছোট বোনের বিয়েতে মতামত নেই, জানিয়ে বাবা-মাকে একাধিকবার অনুরোধ করে আসলেও ছেলের কথা তারা আমলেই নেননি।  

এদিকে রবিবার সকাল থেকে বরযাত্রীদের ভুরিভোজ ও বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে কনে বাড়িতে বেলা ২টার পুর্বেই সব ধরনের আয়োজনও ঘুটিয়ে আনা হয়। অপরদিকে  আদরের একমাত্র ছোট বোনের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে না পেরে অভিমানে দিন কয়েক পুর্বেই বাড়ি ছেড়ে সিলেটে চলে গেলেও বোনের শিক্ষা জীবন ও তাকে বাল্যবিবাহের কবল থেকে রক্ষা করতে শেষ ভরসা হিসাবে বড়ভাই নিজেই রবিবার সকালে মুঠোফোনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান বাল্যবিবাহের আয়োজনের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বরযাত্রীরা আসার আগেই কনে বাড়িতে কয়েকজন ইউপি সদস্য, নারী নেত্রী ও গ্রামের মুরুব্বীদের পাঠিয়ে নিয়ে হাজির হন। ইউপি সদস্যরা ও গ্রামের মুরুব্বীরা বিয়ে বাড়িতে হাজির হলে কৌশলে কনের পিতা বাড়ি থেকে সটকে যান। এক পর্যায়ে স্কুলছাত্রীর মাকে পাড়া প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাল্যবিবাহের কুফল ও রাষ্ট্রীয় আইনে এ ধরনের বিয়ের কোনো স্বীকৃতি নেই এমনটি বুঝিয়ে বলার পর মা নিজেই মেয়ের বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হন। 

এমনকি ১৮ বছর পুর্ণ না হওয়া অবধি  মেয়েকে বিয়ে দেবেন না বলে মা নিজেই প্রতিশ্রুতি দেন।
 
সোমবার ধর্মপাশার জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বললেন, নিজের ছোট বোনের শিক্ষা জীবন ও বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষায় সহোদর ভাই নিজেই আমাকে মুঠোফোনে অবহিত করে শেষ অবধি পারিবারীক সচেতনতায় যেভাবে বিয়ে ঠেকাতে পেরেছে সেক্ষেত্রে ভাই -বোন দু’জনই প্রশংসার দাবি রাখেন। 

পাঠকের মন্তব্য