ঠাকুরগাঁও বড়গাঁয়ে ৫০ বছর বৃদ্ধদের প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও বড়গাঁয়ে ৫০ বছর বৃদ্ধদের প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও বড়গাঁয়ে ৫০ বছর বৃদ্ধদের প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও তরুন সমাজের আয়োজনে শুক্রবার বিকালে বড়গাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃদ্ধদের প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। 

ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণকারী দুই দলের সব খেলোয়াড়ের বয়স ৫০ বছরের বেশি। জীবনে শেষ কবে বলে লাথি দিয়েছেন তাও তাঁদের মনে নেই। এঁদের মধ্যে ৭০ বছর ছুঁই ছুঁই বা এর আশপাশের বয়সেরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বয়সের কারণে খেলার ধরন কিছুটা এলোমেলো হলেও বার্ধক্যকে জয় করে পুরো একটি ঘণ্টা মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দুই দলের ষাটোর্ধ্ব খেলোয়াড়রা। এই বয়সেও খেলার মেজাজে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো ঘাটতি ছিল না তাঁদের মধ্যে। 

শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত সর্বস্ব উজাড় করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ এমনই ছিল যে, ফাউলের কারণে রেফারি নুরুল ইসলামকে বাঁশি বাজাতে হয়েছে ২০ বারের ওপর। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় লাল দল ও সবুজ দল ১-১ গোল করেন এবং রেফারি নুরুল ইসলাম যেহেতু বৃদ্ধদের খেলা তাই কোন দলকে পরাজিত না করে খেলা শেষ করেন। ব্যতিক্রমী এ খেলা উপভোগ করেন মাঠে উপস্থিত হওয়া কয়েক হাজার দর্শক। বিশেষ করে নারী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শকদের একটি বড় অংশই ছিল খেলোয়াড়দের ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী-পুত্রবধূ ও নাতি-পুতিরা। খেলা চলার পুরোটা সময় তাঁরা চিৎকার করে উৎসাহ জুগিয়েছেন খেলোয়াড়দের। বড়গাঁও তরুন সমাজ ব্যতিক্রমী এ ফুটবল খেলার আয়োজন করে। এ খেলার উদ্যোক্তা বেলাল হোসেন বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এ ধরনের একটি আয়োজনের মাধ্যমে প্রবীণদের সম্মানিত করা। পাশাপাশি তরুণদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে উদ্বুদ্ধ করা। 

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন ভূল্লী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জুলফিকার আলী। ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষার। বড়গাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম, গোসিয়ার, সাহারিয়ার আহম্মেদ সোহান, রুজবেল, আলী, কামাল, সিয়াব, কাউসার, জিল্লুর মেম্বারসহ অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। খেলায় ধারাভাষ্যে জাতীয় ধারাভাষ্যাকার জনাব মির্জা ফরিদ ও জনাব মোস্তাক আহম্মেদ ধারাভাষ্য পরিচালনা করেন। খেলাশেষে লাল দলের ও সবুজ দলের অধিনায়ক সহ খেলোয়াদের একটি করে লুঙ্গি প্রদান করেন।

পাঠকের মন্তব্য