সোনারগাঁয়ে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো তালাকপত্র পেয়ে স্ত্রীর আত্নহত্যা 

সোনারগাঁয়ে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো তালাকপত্র পেয়ে স্ত্রীর আত্নহত্যা 

সোনারগাঁয়ে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো তালাকপত্র পেয়ে স্ত্রীর আত্নহত্যা 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো তালাকপত্র পেয়ে সোহাগী আক্তার (২৫) নামে এক সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সোনাখালী গ্রামে নিহতের বাপের বাড়ীতে গৃহবধূ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা করেছেন নিহতের মামা। এ ঘটনায় শশুরকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

নিহত সোহাগী আক্তার(২৫) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের আহম্মদ আলী মেয়ে।

তার স্বজনরা জানান, গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় শশুর বাড়ীর (প্রবাসী মামুনের) মামা মনির হোসেন(৬২), তার স্ত্রী হালিমা (৫০),মো: ইব্রাহীম,শরীফাসহ ৬/৮ জন নিহতের বাড়ী সোনাখালী এসে তালাকের কথা বলেন। পরে তাকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করে তারা চলে যায়। গত ৯ সেপ্টম্বর মামুন প্রবাস থেকে ইন্টারনেট ইমুর মাধ্যমে সোহাগীকে তালাক দিয়ে সে পত্র সোহাগীর কাছে পৌঁছায়।

এ তালাকপত্র (চিরকুট) পেয়ে স্বামীর সঙ্গে সোমবার রাতে সোহাগী প্রচন্ড ঝগড়া হয়। পরে একপর্যায়ে ক্ষোভে, দুঃখে ও অভিমানে ৩ টায় 'স্বামীর তালাকপত্র পেয়ে সহ্য করতে না পেরে। সোহাগী ও ছেলেকে ঘুমিয়ে রেখে বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য ইব্রাহীম ও তার পরিবারের সদস্যরা সোহাগীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল বলে দাবি সোহগীর স্বজনদের। গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্বামীর তালাক নামা দেখেই সোহাগীর মৃত্যু হয়।

সূত্র জানায়,   গত সাত বছর ধরে মো: মামুন প্রবাসে রয়েছেন। বন্দর উপজেলা মালিবাগ গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে। দুই বছর কেওঢালা থেকে মালিবাগ ছেলেকে নিয়ে গৃহবধূ সোহাগী বসবাস করছিলেন। বিবাহের পর থেকে সোহাগী ও মামুনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শশুর বাড়ী লোকজনের অত্যাচরে সামাজিক ভাবে একধিকভার সালিশ হলেও শেষ পযর্ন্ত নিয়তিই তার কাল হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, গৃহবধূ সোহাগীর আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মামা মো: আল আমিন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য