জিএস পদে থাকা নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছেন রাব্বানী  

জিএস পদে থাকা নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছেন রাব্বানী  

জিএস পদে থাকা নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছেন রাব্বানী  

দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতাদের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে- রাব্বানীর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে থাকা নিয়েও।

তবে নৈতিক স্খলনের দায়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে গঠনতন্ত্রে কারো পদ বাতিল, স্থগিত বা বহিষ্কার ডাকসুর সভাপতি তথা উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতা বলে হয়ে থাকে বলে উল্লেখ আছে।

সংবিধানের চার নম্বর পৃষ্ঠায় উপাচার্যের ক্ষমতায় উল্লেখ আছে, 'সংসদের স্বার্থে সভাপতি চাইলেই যেকোনো সময় যেকোনো কার্যনির্বাহী সদস্য বা অফিস কর্মচারীকে বহিষ্কার কিংবা পদচ্যুতি করতে পারবেন এবং তিনি চাইলে, পুরো কার্যনির্বাহী সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন।' (The president shall have power at any time in the best interest of union to dismiss any office bearer or member of Executive Committee or to dissolve the Executive Committee as a whole and call for fresh election.....)

অন্যদিকে গঠনতন্ত্রের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য পদ সম্পর্কে উল্লেখ আছে, ‘যদি কোনো সদস্য কিংবা কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দেন অথবা কেউ স্বেচ্ছায় সরে যেতে চান বা মৃত্যুবরণ করেন। তাহলে নির্বাচন কমিশনের কার্যবিধি অনুসারে খালি পদ পূরণ করা হবে।’ (In case any member of Executive Committee or office bearer tenders his resignation or dies or is removed from office the vacancy shall be filled up for the remaining period of his incumbency by the usual system of election prescribed herein)

সুতরাং নৈতিক স্খলনের বিষয়ে গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করে কোনো কিছু বলা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন রাব্বানীর জিএস পদে থাকা উচিৎ না। ঢাবি'র মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ হিল বাকী জানান, নৈতিক স্খলনের দায়ে দণ্ডিত একজন নেতা কী করে ডাকসুর জিএস পদে থাকতে পারে? যার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত। তার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিৎ।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তারেক হাসান নির্ঝর জানান, চাঁদাবাজির কারণে তিনি যেহেতু ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ হারিয়েছেন, তাহলে একই অপরাধে ডাকসুর জিএস পদেও তার থাকা উচিত না।

তবে সমালোচনার সুরে অনেকে বলছেন, ডাকসুর সভাপতির উচিৎ তার বিশেষ ক্ষমতাবলে রাব্বানীর জিএসের পদ বাতিল করা। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘যেহেতু তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাত্রলীগের পদও তিনি হারিয়েছে, সেহেতু আমি মনে করি নৈতিকভাবে তার আর এ পদে থাকার অধিকার নেই।’

ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, 'এটা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিষয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু করার নেই। শিক্ষার্থীদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা বিষয়টি ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত জানাবো।'

পাঠকের মন্তব্য