ডাকসুর জিএস থেকে কেন পদত্যাগ করব : রাব্বানী

রাব্বানী

রাব্বানী

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না গোলাম রাব্বানী। সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় রাব্বানী বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি, তাহলে কেন ডাকসুর জিএস পদ থেকে পদত্যাগ করব’।

রাব্বানী বলেন, ‘সবাই সবার ভুল বুঝবেন একদিন’।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার ক্যাম্পাস। সেখানে শ শ কোটি টাকার কাজ হলো, এখানে কোনো ইনভলবমেন্ট ছিলো না আমাদের। কেউ আমাদের নামে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেনি। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা চাঁদাবাজি করতে গিয়েছি। এটা কী সত্য?’

রাব্বানী আরো বলেন, ‘আজকে একটি টেলিফোন রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। কই সেখানে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি’। ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি ম্যামও আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির কোনো অভিযোগ করেননি’।

ডাকসুর জিএস রাব্বানী বলেন, ‘আমি চাঁদা চাইলে ভিসি ম্যামের কাছে কেন চাইবো? চাঁদা দাবি করলে তো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করব। কই কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তো এ অভিযোগ আনেননি’। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি গর্হিত কোনো অপরাধ করিনি।’

সাম্প্রতিক বিতর্কিত নানা কর্মকান্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বাদ পড়েছেন। পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ বিষয়ে আলোচনার পর দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তাদের অব্যাহতি দেন।

৭ সেপ্টেম্বরের সভায় ছাত্রলীগের বাদ পড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়। সবশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের কমিশন দাবির অভিযোগটি সামনে আসে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, শুক্রবার গোলাম রাব্বানী এমন অভিযোগ করলে শনিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য তা অস্বীকার করেন।

গত বছরের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় এই বছরের মে মাসে। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদ পড়লেন। ছাত্রলীগের ইতিহাসে এ ধরনের নজির খুব একটা নেই বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য