বিনা চিকিৎসায় শিকলবন্দী জীবন : অন্ধকার কুটুরিতে ৩০টি বছর

বিনা চিকিৎসায় শিকলবন্দী জীবন : অন্ধকার কুটুরিতে ৩০টি বছর

বিনা চিকিৎসায় শিকলবন্দী জীবন : অন্ধকার কুটুরিতে ৩০টি বছর

চোখে মুখে যেন ভাসছে কৈশোর-যৌবনের অপূর্ণ সাধ-স্বপ্নগুলোর মিইয়ে যাওয়া ছাপ। সেখানে স্থান করে নিয়েছে দুর্বিষহ জীবনের না বলা বেদনার ছাপ। সে সব দুঃখ বেদনা প্রকাশের শক্তি হারিয়েও আজ নির্বাক রতন মিয়া।

মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার পর গত ৩০ বছর ধরে একটি ছোট্ট অন্ধকার কক্ষে বিনা চিকিৎসায় শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এক স্বচ্ছল পরিবারের এই সদস্য। এখন বয়স তার ৫৫।

এমন অভিযোগ আছে, সম্পত্তির লোভে চিকিৎসা না করিয়ে তাকে পাগল বানিয়ে রাখা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তার দুঃসহ জীবনের গল্প ভাইরাল হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মহলে। স্বজনরা শুরুতে চিকিৎসা করানোর দাবি করলেও কোথায় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলেন তা বলতে পারছেন না।

জনপ্রতিনিধিরা ও প্রশাসন বলছে, বিষয়টি অবগত হয়ে অবহেলার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং অমার্জনীয় অপরাধ বলে অভিহিত করে রতনকে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান।

জানা গেছে, ৩০ বছর আগে পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ষাটিয়াদী গ্রামের হাজী বাড়ীর মৃত আবদুল মোমেনের ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত মেঝো ছেলে রতন মিয়া গরু বাঁধার খুটি দ্বারা মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই কোনো প্রকার চিকিৎসা না করিয়ে বড়ভাই ও ছোট ভাই তাকে শিকলবন্দী করে রাখেন। পরবর্তীতে ছোট ভাইটি মারা যাওয়ায় বড় ভাই-ই পৈতৃক সহায়-সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করছেন। বসত ঘরের বারান্দায় একটি ছোট্ট কক্ষে রতনকে শিকলবন্দী করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রাখা হয়।

এ ছোট্ট কক্ষের ভেতর একটি পাকা খাম তৈরি করে সে খামের সঙ্গে তার পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা হয়। এ ছোট্ট কক্ষেই প্রস্রাব পায়খানার জন্য লেট্রিনও করে দেয়া হয়েছে। আর এ নির্জন এবং অস্বাস্থ্যকর তালাবদ্ধ ছোট্ট কক্ষেই কেটেছে তার জীবনের ৩০টি বছর। জন্মদাতা মা-বাবার অবর্তমানে লোভী বড় ভাইয়ের গলগ্রহ হয়ে ধুঁকে ধুঁকে এভাবে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন তিনি।

অথচ এক সময় এই প্রাণোচ্ছল সৌখিন যুবক রতনের বাঁশির সুর মুগ্ধ করতো এলাকাবাসীকে। শিকলবন্দী রতনের এ ঘটনাটি এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও নতুন প্রজন্মের সচেতন তরুণরা জানতে পেরে অমানবিক ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

পাঠকের মন্তব্য