যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর বিবৃতি

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনার বরাত দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সম্পর্কে কিছু বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এসব সমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নতাড়িত, শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি প্রতিষ্ঠিত একটি যুব সংগঠন। এই যুব সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশের তরুণ যুবকদের যুবমানস গঠন করা। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তার কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবসমাজের মেধা-মনন চর্চার বিকাশের জন্য কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ যুবজাগরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এখান থেকে যুব পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জীবনকর্ম, মুক্তিযুদ্ধের সমসাময়িক নানা বিষয় প্রকাশনার মাধ্যমে যুব জাগরণ কেন্দ্র কাজ করছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন যারা একুশে গ্রন্থমেলায় বুক স্টল স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রথম রাজনৈতিক দল যারা দেয়াল লিখন, পোস্টার ছাপানোর মতো পরিবেশবিনাশী তৎপরতা বন্ধ করে দিয়ে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র এবং বিজ্ঞাপন প্রকাশের সংস্কৃতি চালু করেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন ‘জনগণের ক্ষতায়ন’ এর আলোকে পরিচালিত একটি সংগঠন। এই সংগঠন যুবমানস গঠন করতে চায়। যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। যুবসমাজ যেন মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে সে লক্ষ্যে যুবমানস গঠনের জন্য কাজ করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ দলের শৃংখলা ও আদর্শ অনুসরণ করে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভেতর কেউ যেন নৈতিকস্খলনজনিত কোন অপরাধ না করে সেজন্য শূন্যসহিষ্ণুতা নীতি নিয়ে চলে এ সংগঠন। এ জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নিজস্ব ট্রাইবুনাল রয়েছে। এ ট্রাইবুনালে যুবলীগের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে তা তদন্ত ও অনুসন্ধান করা হয়। দোষী নেতা-কর্মী তিনি সেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগের বিভিন্ন ব্যক্তি ও কমিটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তাই এ ব্যাপারে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিচ্ছে-

১. সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নিজস্ব ট্রাইবুনালের মাধ্যমে তদন্ত করবে।
২. বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কোনো নেতা বা কোনো শাখার বিরুদ্ধে যদি কারও অভিযোগ থাকে, তাহলে তা আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান বরাবর নিম্ন ঠিকানায় পাঠাতে পারেন।

মোঃ হারুনুর রশিদ 

সাধারণ সম্পাদক, 
বাংলাদশে আওয়ামী যুবলীগ।
মোবাইল : ০১৭১২১৩৯০৮৮

ঠিকানা : ২৫ বঙ্গবন্ধু এভনিউি, আওয়ামী যুবলীগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

আপনার এ অভিযোগের সঙ্গে যদি কোনো কাগজপত্র, দলিল বা তথ্যপ্রমাণ থাকে সেটাও চিঠির সঙ্গে হস্তান্তর করবেন।

৩. এ সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুবলীগের কোনো নেতা বা শাখার (যে পর্যায়েরই হোক না কেন) বিরুদ্ধে নুন্যতম অভিযোগেরও যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ-
ক. তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি ও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
খ. যদি এই অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পরে তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় তাৎক্ষনিকভাবে অভিযোগটি প্রেরণ করবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই থানাকে অনুরোধ করবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি যুববান্ধব সংগঠন হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চায়। কারণ আগামী দিনের জন্য যে যুবসমাজ তৈরি করতে হবে সেই যুবসমাজকে হতে হবে উদ্ভাবনী মেধাসম্পন্ন। তাদের মধ্যে মেধা এবং মননের চর্চা থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। কাজেই কোনো অভিযোগের ব্যাপারেই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ উদাসীন থাকতে পারে না। এটা বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্যেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
আশা করি, আপনারা এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করবেন।

ধন্যবাদান্তে- 

মো: ওমর ফারুক চৌধুরী
চেয়ারম্যান,
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

পাঠকের মন্তব্য