যুবলীগ নেতা, কে এই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ?

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

অস্ত্রসহ গুলশানের বাসা থেকে র‌্যাবের হাতে আটক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সম্পর্কে জানা যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগই শুধু নয়- খালেদের ছত্রছায়ায় রয়েছে বেশ বড় একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ। যারা খালেদের নামে প্রতিদিনিই তোলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা।

সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মতিঝিল-ফকিরাপুল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে একাধিক মামলাও। 

২০১২ সালের পর ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছত্রছায়ায় ঢাকার একটি অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে খালেদের হাতে। আর এলাকায় নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

যুবলীগ নেতা খালেদের উত্থান 

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণী বিতানের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শপার্স ওয়ার্ল্ডের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে এক সময়ের সহযোগী যুবলীগ নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেক এবং তার ভাড়াটে খুনিরাই মিল্কিকে হত্যা করে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ও পরে 'ক্রসফায়ারে' নিহত জাহিদ সিদ্দিকী তারেক।

মিল্কি ও তারেকের মৃত্যুর পর তাদের এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছত্রছায়ায় ঢাকার একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ আসে খালেদের হাতে। নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করেন তিনি।

‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করতে শুরু করেন খালেদ। তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে (মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা) থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন খালিদ।

রাজউক, রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ এসব এলাকার বেশিরভাগ টেন্ডার দখলে নিতে থাকেন যুবলীগের এই নেতা। শুধু তাই নয় মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকার কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন খালেদ। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াম্যান্স নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) বসে।

এছাড়া, খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের হাট বসান খালেদ। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা আদায় করেন তিনি। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

পাঠকের মন্তব্য