দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ গোপালের অপসারণ ও কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ গোপাল এর অপসারণ ও কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ গোপাল এর অপসারণ ও কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী আর, কে, বি, কে, হরিশচন্দ্র কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট এর দুর্নীতিবাজ কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ গোপাল এর অপসরন ও কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। জানা গেছে, বিগত এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী উপজেলার রাড়–লী, চাঁদখালী ও তালার শালিখা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল রাড়–লী কলেজিয়েট। কিন্তু গত ১৭ জুলাই সকল বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলেও উক্ত তিনটি কলেজের ২৭ শিক্ষার্থীর রেজাল্ট প্রকাশ না করে তাদেরকে রিপোর্টেড করা হয়। এরই প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের সামনে মেইন সড়কে ২৭ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। মানববন্ধন পুর্ব সমাবেশে অভিভাবকবৃন্দ বলেন, তাদের ছেলে-মেয়েদের খাতায় দুই রকমের হাতের লেখা থাকার কারনে তাদের রিপোর্টেড করা হয়েছে। কিন্তু দুই রকমের হাতের লেখা কি ভাবে খাতায় আসলো ? 

এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা জানান, রিপোটেড হওয়ার পরে তারা স্ব-স্ব কলেজের অধ্যক্ষের নিকট জানতে চাইলে অধ্যক্ষ স্যাররা তাদেরকে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে ২৩ জুলাই বোর্ডের কন্ট্রোলার মাধব চন্দ্র রুদ্র এর সাথে দেখা করলে তিনি জানান, তাদের খাতায় হাতের লেখা দুই রকম থাকায় তাদের রিপোটেড করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান, তারা যথা নিয়মে নিজেরাই খাতায় উত্তর দিয়েছেন, তাহলে কিভাবে লেখা দুই রকম হলো? এক পর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জানায়, ৩ আগষ্ঠ বোর্ড কর্তৃপক্ষ তদন্তে আসবে। তখন যেন শিক্ষার্থীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে বলে, নিজেরা অন্যের খাতা দেখে লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় হাতের লেখা দুই রকমের হয়ে গিয়েছে। এটা বললে বোর্ড কর্তৃপক্ষ হয়ত মার্সি করবে বলে আশ্বস্ত করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখন আমরা (শিক্ষার্থী) মিথ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানাই। শিক্ষকের এহেন আচরনে প্রমানিত হয় তারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত। এদিকে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা ফলাফল না পেয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। 

চঁদাখালী কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া তানজিম এর পিতা আব্দুল গপ্ফার ও একই কলেজের পিংকী নন্দীর পিতা প্রনব কুমার নন্দী  জানান, তাদেরসহ ২৭ নিরাপধী শিক্ষার্থীরা যাতে ন্যায্য ফলাফল পেতে পারে তার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এহেন জঘন্য কাজের জন্য মানববন্ধন কর্মসুচি থেকে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ গোপালের অপসারনসহ উক্ত কেন্দ্র বাতিলের দাবি জনিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া তানজিম, পিংকী নন্দী, মানছুরা খাতুন,আলাফা খাতুন, ইব্রাহিম হোসেন, নমিতা হালদার, তিথী রানী কর্মকার, সুফিয়া খাতুন, জলি খাতুন, শারমিন, সুমন প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য