কেন খুনীদের দল বিএনপি : যত 'যুক্তিক' কারণ ও ব্যাখ্যা 

কেন খুনীদের দল বিএনপি : যত 'যুক্তিক' কারণ ও ব্যাখ্যা 

কেন খুনীদের দল বিএনপি : যত 'যুক্তিক' কারণ ও ব্যাখ্যা 

ইকবাল আহমেদ লিটন : লেখার শুরুতে আমি বিএনপি নেতা - শামসুজ্জামান দুদুর ভয়ানক বক্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃনা জ্ঞাপন করছি। যাই হোক, কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলা কী অপরাধ? কালোকে কালো বলা যদি অপরাধ না হয়ে থাকে তাহলে আপনার বিবেক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদালত। প্রশ্ন করুন নিজ বিবেকের কাছে আর কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা বলুন। একটি চিরন্তন প্রবাদ আছে অপ্রিয় সত্য কথা বলতে নেই -আসলেই কি তাই? আমি অবশ্য এটা মানতে নারাজ। আমার কাছে এর স্বপক্ষে অবশ্যই যুক্তি আছে। আমাদের একটি বাজে স্বভাব হলো সামনে কাউকে দোষারোপ করতে না পারা। কিন্তু আড়ালে চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ি। যার মোট কথা, কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা না বলতে পারা। আমি এই ভেবে গর্বিতবোধ করি যে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। আমার নিজস্ব একটি রাজনৈতিক চেতনা আছে, আছে ন্যূনতম মূল্যবোধ সম্পন্ন রাজনৈতিক আদর্শ। স্বভাবতই এখানে যখন অনিয়মই নিয়ম আর নিয়ম যেখানে অনিয়ম সেখানে কি'ই বা আর বলার থাকে? তবুও প্রশ্ন থেকে যায় কিছুই কি বলার নেই? আছে তবে তার জন্য চাই সৎ সাহস, নিজকে মানুষ মনে করা আর সেই সাথে প্রতিবাদী চেতনা। সেটাতে যদি নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হয় তবুও আমি মনে করি গর্বের ব্যাপার। পাঠক আমি মনে প্রানে বিএনপি ও তার মিত্র জামাতকে ঘৃণা করি। বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর সম্প্রতি বক্তব্যের তিব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই এবং সেই সাথে তার ঘৃণ্যতম বক্তব্য নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আশাকরি সাথেই থাকবেন।

বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের নাম বিএনপি, ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টে বসে মেজর জিয়া এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা ইংরেজিতে Bangladesh Nationalist Party (BNP) নামে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় কয়েকবার বিএনপি সরকার ছিলেন। আমরা অনেকেই জানি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সামান্যই পূরণ করতে পেরেছিলেন। নির্বাচনী ইশ্তেহারে প্রকাশিত ৩২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের শতাধিক অঙ্গীকার এর মধ্যে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি তারা পূরণ করেছিল। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সিদ্ধান্তহীন থেকেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা ছিল সীমিত আয়ের মানুষ। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে দেখা দিয়েছিল মঙ্গা। বাংলাদেশে যেসব সাধারণ অপরাধ ঘটে তার বিপরীতে অপরাধের জায়গা দখল করে নিয়েছিল বোমা হামলা, ইসলামি জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসবাদ। নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গিয়েছিল সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সাংসদ এবং শিক্ষাবিদসহ সবার মাঝে। সরকারী এবং বেসরকারি কাজ পেতে হাওয়া ভবনে কমিশন দেওয়ার ঐতিহ্য স্থায়িত্ব পেয়েছিল বিগত সেই সময়। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে উঠেছিল বেশী। বাংলাদেশ ছিল তখন বিশ্বের দরবারে শীর্ষ দুর্নীতির দেশগুলোর মধ্যে একটি। চার দলীয় জোট সরকারের ২০০১-২০০৬ এ সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষজন ভালো ছিলনা একেবারেই বললে চলে। মানুষের আয় যতটুকু বেড়েছিল জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছিল তার চেয়েও কয়েকগুন বেশী। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হওয়ার দুর্নাম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রক্ষা করতে পারেন নাই। বরং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এর সময়েই আরও চার বার দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছিল বাংলাদেশ। 

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ। বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় নেমে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছেন অনেকেই। রাজধানীর শনির আখড়ায় বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা সাধারন মানুষের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে প্রতিশ্রুতি পুরনে ব্যর্থ তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদকে। জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে রাস্তায় নেমেছিল দেশের সবচেয়ে বেশী রপ্তানি আয়কারী তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মুল্যস্ফীতি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বাড়িয়ে দিয়েছিল। মন্ত্রীরা তাদের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছিলেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে। কার্যত এ বিষয়ে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও কোন সমন্বয় ছিলনা। কাজ পেতে হলে বিশেষ বিশেষ স্থানে কমিশন দিতে হতো একথা তখন মানুষের মুখেমুখে প্রচলিত ছিল। কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটা বিশেষ গোষ্টী তৈরি হয়েছিল চার দলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলেই। এরা সবাই ছিল প্রভাবশালী, নেতা-নেত্রীদের আত্মীয় ও ঘনিষ্টজন। সরকারের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ ও নানা দুর্নীতির সঙ্গে তারেক জিয়ার নিয়ন্ত্রিত হাওয়া ভবন এর নাম প্রচারে এসেছিল বারবার। চার দলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই একের পর এক খুন, ডাকাতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক বেড়ে গিয়েছিল। এ সময়ে দেশব্যাপী জঙ্গি সন্ত্রাসের উত্থান ঘটেছিল। আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থ মন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও সাংসদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার হত্যাকান্ড দেশে অস্থিরতা নিয়ে এসেছিল বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে। ঐ সময়ে নিহত হন ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কি আসলেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী? আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, বিএনপি নামের এই রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মদদদাতা দল। তারা জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী নয় বরং তারা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদী চেতনায় বিশ্বাসী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা যারা করেছিলেন তাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া। ক্ষমতায় বসার লোভ সামলানো আসলে বড়ই মুশকিল সেটা তিনি (জিয়া) ইতিপূর্বে প্রমান করে পরপারে চলে গেছেন। জিয়ার তৈরি দলের বর্তমান নেতৃত্বে যিনি রয়েছেন সেই খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান যখন বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর সপ্নে বিভোর ছিলেন জামায়াতে ইসলাম এবং তথাকথিত কিছু মৌলবাদী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তখন বাংলার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দলকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন ২০০৯ সালে।

আমরা দেখেছি, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন দেশে খুন, সন্ত্রাস, জঙ্গি তৎপরতা ক্রমাগত লেগেই ছিল। তৎকালীন বিরোধী দলকে (আওয়ামীলীগ) পুলিশ এবং বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার এবং সন্ত্রাসী দিয়ে অনেক জুলুম এবং অত্যাচার তারা করেছিলেন। অত্যাচার এর সবচেয়ে বড় উদাহরন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন দেশবাসীকে। জিয়ার আমলেই জামায়াতে ইসলাম রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে। জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র এর কথা বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি জামায়াতে ইসলামকে এই বাংলার মাটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সুবিধা করে দেন। যারা (রাজাকার) আমাদের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছিলেন তারাই বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সাহস পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের কারনেই।

আমরা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবো যে; বিএনপির নেতা কর্মী থেকে শুরু করে বিএনপিকে যারা সমর্থন করেন এরা সবাই পাকিস্তানপন্থি বা পাকিস্তান প্রেমী! ব্যাপারটি খুবই আজব বটে! নিজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে হাজার মাইল দূরের একটি দেশ যাদের সাথে আমাদের ভাষার অমিল, সংস্কৃতির অমিল এবং অনেক কিছুই যাদের সাথে আমাদের অমিল রয়েছে এরকম একটি দেশকে বাংলার মাটিতে বসে তাদের ভালোবেসে কি লাভ? তারা মুসলমান এই কারনে? শুধু মুসলিমরা মুসলিমদের ভালবাসবে এবং অন্য ধর্ম্যালম্বি যারা রয়েছেন তাদেরকে ঘৃণা করতে হবে এ কথা কোন কিতাবে লেখা আছে কেউ কি সেটা আমাকে দেখাতে পারবেন? আল্লাহ্ মানুষ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সকল মানুষ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের তৈরি। সুতরাং ধর্মীয় ভেদাভেদ কেন তাদের মাঝে?

যাইহোক, রাজনীতি বা Politics হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যদিও রাজনীতি বলতে সাধারণত নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়, তবে অন্যান্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাজনীতি কতৃত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে গঠিত সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক আচরণ শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহণ ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে। সুতরাং রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই তাকে শিক্ষিত, দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণ হতে হবে। যারা নিজ মাতৃভূমিকে প্রানের চেয়ে বেশী ভালোবাসেন তারা যদি রাজনীতি করেন এবং তাদের দ্বারা যদি দেশ পরিচালিত হয় তবে সেই দেশে অনেক উন্নয়ন হয়। দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে অনেকেই বলেন শেখের বেটি। আসলেই তিনি শিক্ষিতা, দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণ নারী।রাজনীতির ময়দানে দেশরত্ন শেখ হাসিনা এগিয়ে রয়েছেন খালেদা জিয়ার তুলনায় অনেক বেশী। তাইতো বাংলার জনগণ শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন বলে সম্বোধন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সবার অবদান রয়েছে এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের অনেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ এবং অবদানকে অস্বীকার করেন! এদের কি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা আছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠা করা দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলে আমি আমার বিবেককে সান্ত্বনা দিতে পারি। আমার জানি বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য, তিনি যদি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব না দিতেন তাহলে আজো হয়তো আমরা পরাজিত জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেতাম। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি এবং আমার নেতা মনে করি। বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসার কারন হচ্ছে আমি তাকে নিয়ে অনেক ইতিহাস পরেছি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত জেনেছি তত তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি জানতে পেরেছি স্বাধীন বাংলাদেশের জনকের নাম। কারন ইতিহাস কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। আমি যখন স্কুল এ পড়তাম (জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি সরকারের আমলে) তখন আমি বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে ভালো করে জানতাম না। কারন আমি আমার আশেপাশে বিকৃত ইতিহাসের ছড়াছড়ি দেখতে পেয়েছিলাম। আমি যত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে পড়েছিলাম তত বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে নিজে জানতে পেরেছিলাম।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আমি সমর্থন করি কারন তার মাঝে আমি বিচক্ষণতা দেখতে পাই। আমি জানি তিনি খুবই সরল মনের ধার্মিক মানুষ। তার মতো যোগ্য নেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থাকলে আমাদের নিরাপত্তাহিনতায় না খেয়ে থাকতে হবেনা এবং আমি এটাও বিশ্বাস করি যতদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা ততদিন আমরা সাধারণ জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারবো। একদিন বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত ধনী দেশের কাতারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিবে। আসল কথা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিজেদের স্বার্থের নোংরা রঙিন বাসর সাজিয়ে বাংলাদেশকে বার বার ধর্ষন করে খুঁচিয়ে খাঁমচে রক্তপাত করে বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে বাংলাদেশকে বার বার কলঙ্কিত করে খুনি আর ষড়যন্ত্র কারির প্রেতাত্বারা বসবাস করছে অসাম্প্রদায়ীক ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশের ঘরে, রাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে অতিরিক্ত সহনশিলতা ভালো নয়। ফিদেল কাষ্ট্রোর পরামর্শ, বঙ্গবন্ধু যদি শুনতেন অতি উদারতা না দেখিয়ে যদি কঠোর ব্যাবস্থা নিতেন তাহলে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন আজকে বাংলাদেশের অবস্থান থাকতো উন্নত ইউরোপ এমেরিকার কাতারে, বস্তুত বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন আবারো ৭১ এর চেতনা বিরোধী ৭৫ এর খুনিদের আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি বাংলার গন মানুষের মনে শঙ্কা যাগায়, আবারো থমকে যাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে জননেত্রীকে বাঁচাতে হবে, তাই শামসুজ্জামান দুদু সহ যারাই জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জন্য হুমকি তাদেরকে গুনেগুনে রাষ্ট্রিয় বা জনগনের গনধোলাইয়ের মাধ্যমে হত্যা করার দরকার, আইনি শাস্তির প্রক্রিয়া করতে করতে আবার অনেক দেরি না হয়ে যায়, বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে দিতে দেয়া যাবেনা। শামসুজ্জামান দুদু কতৃক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। নরাধম পশুদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, আন্দোলন জারি রাখতে সোচ্চার হউন, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ সদস্য সচিব, ইকবাল আহমেদ লিটন

পাঠকের মন্তব্য