ব্যর্থতার দায় স্বীকার : পদ ছাড়তে রাজি নয় চেয়ারম্যান

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী

বিশেষ প্রতিবেদন, বিবিসি বাংলা : অবৈধ জুয়ার আড্ডা, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি আর ঠিকাদারি ব্যবসায় সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এদিকে যুবলীগ নেতাদের এসকল অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নজর এড়িয়ে যাওয়াকে নিজের ব্যর্থতা বলে দায় স্বীকার করেছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা বিবিসি বাংলাকে দেয়া যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর এক সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে বিবিসি বাংলা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি জানায়, শুরুতে এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর ওই দিনই অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন অবৈধভাবে ক্যাসিনো চলল কীভাবে? পুলিশ বা র‍্যাব এতদিন কী করেছে? এসব প্রশ্নের পাশাপাশি র‍্যাবের অভিযানকে রাজনীতিবিরোধী ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যর্থতা প্রথমে আমার আসবে। আমি অন্যের সমালোচনা কেন করব? এটি আমার ব্যর্থতা। যেহেতু আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান, ফলে বিষয়গুলো কেন আমার অজানা ছিল? আমার নিশ্চয়ই সম্পৃক্ততা ছিল, তা না হলে এই কাজগুলো হলো কীভাবে?

এর আগে র‍্যাবের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। ফলে এটিকে তিনি শুভ উদ্যোগ হিসেবে দেখেন। কিন্তু র‍্যাবের অভিযানের বিরুদ্ধে গত বুধবার দেয়া বক্তব্য থেকে তিনি এখন সরে আসছেন কি না, বিবিসি বাংলা প্রতিবেদকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এখনও তার সেই একই প্রশ্ন, এতদিন কেন অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়নি?

তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি, তাতে এতদিন পর ব্যবস্থা কেন? সেটা যদি অঙ্কুরেই এই ব্যবস্থাগুলো নেয়া হতো, নিশ্চয়ই আজকে আপনি এসব প্রশ্ন করতেন না।
নিজের ব্যর্থতার কথা জানিয়ে বিবিসি বাংলাকে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা বা জুয়ার সাথে যুবলীগের অনেক নেতা জড়িত বলে যে সব অভিযোগ এসেছে, এসব বিষয় তার জানা ছিল না। এখন সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর তিনি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারছেন বলে তার দাবি।

ওমর ফারুক বলেন, ব্যর্থতা প্রথমে আমার আসবে। আমি অন্যের সমালোচনা কেন করব? এটি আমার ব্যর্থতা। যেহেতু আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান, ফলে বিষয়গুলো কেন আমার অজানা ছিল? আমার নিশ্চয়ই সম্পৃক্ততা ছিল, তা না হলে এই কাজগুলো হলো কীভাবে?

তবে ব্যর্থতা বা দায় যদি নিজের ঘাড়ে নেন, তাহলে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি তার পদে বহাল থাকার কথাই তুলে ধরেন।
ওমর ফারুক বলেন, ব্যর্থতা মানেই কি পদত্যাগ করা? সমস্যা থাকবেই। এখন ব্যর্থতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার সুযোগ এসেছে। আমি এসবের পেছনে আরও কারা জড়িত, তার বিস্তারিত আমি জানার চেষ্টা করবো। এগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করবো।

অবৈধ ক্যাসিনো চালানো এবং চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগে যুবলীগ যে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে, সেটা আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে বিব্রত করবে কি না, সে বিষয়টা তিনি মেনে নেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, নিশ্চয়ই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তবে আমার বা যুবলীগের সৃজনশীল যে কাজগুলো আছে, সেগুলো তো আপনারা স্বীকৃতি দেন না।

এদিকে যুবলীগ চেয়ারম্যানের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন-কাশেম বিবিসিকে বলেন, কোনো অনিয়ম বা অপরাধের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরই র‍্যাব অভিযান চালায়।

ব্যর্থতা মানেই কি পদত্যাগ করা? সমস্যা থাকবেই। এখন ব্যর্থতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার সুযোগ এসেছে। আমি এসবের পেছনে আরও কারা জড়িত, তার বিস্তারিত আমি জানার চেষ্টা করবো। এগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করবো।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রেও র‍্যাব অনেকদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি ক্যাসিনোতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই বিষয়টির প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ জুয়ার আড্ডা বন্ধে রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় অবস্থিত ক্লাব পাড়ায় অভিযান চালায় বাংলাদেশের বিশেষ এলিট ফোর্স র‍্যাব। এ সময় সেখানে অবস্থিত ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযানকালে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর দায়ে ক্লাব সদস্য ও কর্মচারীদের আটক করে র‍্যাব।

একই দিনে এই অবৈধ ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানস্থ তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের একটি টিম। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিন মহানগর যুবলীগের সভাপতি সম্রাটসহ একাধিক নেতাদের খোঁজে চলছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযান।

সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দলটির ছাত্র সংগঠন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগসহ দলের অন্যান্য সংগঠনগুলোর শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম ঘোষণা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এক পর্যায়ে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। । এমন প্রেক্ষাপটে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তা অব্যাহত রাখার কথা বলছে র‍্যাব।

শুরুতে এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর ওই দিনই অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন অবৈধভাবে ক্যাসিনো চলল কীভাবে? পুলিশ বা র‍্যাব এতদিন কী করেছে? এসব প্রশ্নের পাশাপাশি র‍্যাবের অভিযানকে রাজনীতিবিরোধী ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ব্যর্থতা বা দায় যদি নিজের ঘাড়ে নেন, তাহলে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি তার পদে বহাল থাকার কথাই তুলে ধরেন।

পাঠকের মন্তব্য