ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হোতাদের ধরা হচ্ছে না কেন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হোতারা ধরা না পড়ায় এ অভিযান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আজ (সোমবার) সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ১০ বছর পর কেন এ অভিযান, যাদের নাম মানুষের মুখে মুখে তাদের ধরা হচ্ছে না কেন?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো সব দেউলিয়া করে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাদের ঘরে ঘরে এখন ব্যাংক, টাকশাল বানানো হয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবগুলো দখল করে আওয়ামী লীগের রাঘববোয়াল এমপি-মন্ত্রীরা ক্যাসিনো ক্লাবে পরিণত করেছেন। এসব জুয়ার ক্লাব থেকে আয়ের একটি অংশ নানা হাত ঘুরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে চলে যায়।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় ক্যাসিনো, ইয়াবার নাম জানতো না মানুষ। আজ নিজেদের অপকর্ম অপরের উপর চাপাচ্ছে সরকারি দল।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে বাংলাদেশ আজ বিপর্যপ্ত। শেয়ারবাজার, ব্যাংক, কয়লা, পাথর,পর্দা, বালিশ, টিন, বই, চা, চেয়ার, টেবিল—সবকিছুতেই দুর্নীতি গিজগিজ করছে। হঠাৎ বিস্ময়কর অভিযানে আবিষ্কার হলো শত শত কোটি টাকা, ক্যাসিনো, মদ ও জুয়ার আসরের খবর। শত শত বছরের মসজিদের শহর ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহরে পরিণত হয়েছে। ডুবে গেছে লুটপাট, খুন, ধর্ষণ, মদ, জুয়া, ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, অনাচারে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের হরিলুটে গোটা দেশ ফাঁপা ফোঁকলা হয়ে গেছে। ব্যাংকে টাকা না থাকায় এখন সরকারি, আধাসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তহবিলে হাত দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় একটি ইতিবাচক আলোচনায় থাকতে দুর্নীতি-অনাচারের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযান আইওয়াশ কিনা- এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ লোক দেখানো এ অভিযানে অধরাই থেকে যাচ্ছেন মাদক ও দুর্নীতিবাজদের গডফাদাররা। কারণ, এবারের আওয়ামী আমলে সমগ্র বাংলাদেশ গডফাদারদের কব্জায়।’

পাঠকের মন্তব্য