শেখ হাসিনার লড়াই এবার দুর্নীতিবাজ ও অশুভশক্তির বিরুদ্ধে 

শেখ হাসিনার লড়াই এবার দুর্নীতিবাজ ও অশুভশক্তির বিরুদ্ধে 

শেখ হাসিনার লড়াই এবার দুর্নীতিবাজ ও অশুভশক্তির বিরুদ্ধে 

ইকবাল আহমেদ লিটন : প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে এই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রুপায়িত করার জন্য। ভয় কিসের? সবসময় বাংলার মানুষের সাথে আছেন নির্ভীক, অকুতোভয়ী একজন রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, তিনি একাই একশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা পরিচয়ের পাশাপাশি শেখ হাসিনা আজ পুরো বিশ্বে শীর্ষ ও আলোচিত নেতৃত্বের একজন। শেখ হাসিনার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব হয়ে উঠার উপাখ্যান আমাদের সকলেরই কমবেশি জানা। আমরা জানি ঠিকই, কিন্তু অনেকে মানতে চাই না। এই হীনমন্যতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনার মত সাহসী, দূরদর্শী, উদ্যমী, সৎ ও আন্তরিক নেতা এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কেউ নেই।

যাইহোক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোসণার পর ও শোভন-রাব্বানী দুই শীর্ষ নেতার পতনের পরপর গননা যখন থেকে শুরু হয়েছে তখন থেকেই একদল নেতাকর্মী, বা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করা এমন কিছু গুটিকয়েক নেতা বা কর্মীদের ফেইসবুক পোস্ট দেখেছি বা অনেকের সাথেই ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে গিয়ে দেখেছি তাদের অনেকেরই রাজনৈতিক ঈমান খুবই দুর্বল। কিছু শোভন/ রাব্বানী/খালেদ/জে কে শামিম সমর্থক বর্তমান কমিটির নেতা, কিছু সাবেক নেতা অনেকেই তাদের পক্ষে বা যেকোনো একজনের পক্ষে এখনো সাফাই গাইছেন ফেইসবুকে। কেউ কিছুটা অনুনয়ের সুরে, কেউ বিনয়ের সুরে, কেউ বা খুবই আক্রমনাত্মক ভাষায়। এর পিছনে হয়তো কোন দেনা পাওনা বা বিনিময়ের ব্যাপার থাকতে পারে। অনেকেই যারা ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার আমার কাছে আমার মতে এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে তা জানতে চেয়েছেন বা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন, তাদের মতামত শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি। দেশের বেশীরভাগ মানুষই দলমত নির্বিশেষে মনে করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে শেখ হাসিনা যেই সিদ্বান্ত নিয়েছেন সেইটা যুগোপযোগী ও ৪র্থ বারের মত প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থাকা নেত্রীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন ও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত একটা প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার ওয়াদা পুরনে একটা দৃপ্ত পদক্ষেপ। 

শোভন রাব্বানীর বিষয়টা দিনের আলোর মত পরিষ্কার ছিল যে তারা ভ্রষ্টাচারী তারা তাদের লক্ষ্য, পথ ও আদর্শচ্যুত ছিল তাই তাদের এই শাস্তি প্রাপ্য ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাননীয় নেত্রীর যে সিদ্বান্ত তা ছিল শুধু তাদের শিক্ষা দেয়া বা শাস্তি দেয়া নয় এই শিক্ষা আমরা মনে করছি বহুলাংশে ’ঝি কে মেরে বউকে শেখানোর মত’ মানে অন্য যেকোনো ক্ষমতাসীন ব্যক্তির জন্য একটা বার্তা। তার যথেষ্ট প্রমাণ নিজ দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও এমন নজির পৃথিবীর কোন দেশেই হয়নি, আমাদের দেশরত্ন যেটা পারেন অন্যকেউ সেটা পারেননা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ধরেছে এরপর সিরিয়াল আসবে রাঘববোয়ালদের উপর, শুধু দেখে যান আর দেশপ্রমে বলিয়ান হয়ে দেশপ্রেমিক নেত্রীকে সাহস ও ভালবাসা জানান, এটাই হবে আমাদের জন্যই মঙ্গল কেননা, শেখ হাসিনা নামক এই দুঃখী মানুষটি আমাদের জন্যই লড়ছেন, আমাদের জন্যই তিনি এতটা পরিশ্রম করে চলেছেন -জাতির পিতার স্বপ্ন পুরনে সচেষ্ট এক যোদ্ধা ও নাবিক তিনি যার আপন বলতে এই বাংলার জনগন ছাড়া কেউই নেই। এইবার আসি যা নিয়ে আলাপ করছিলাম সেইটাতে, যারা এখনো মনে করছেন বা বিশ্বাস করছেন (অবশ্য আপনাদের এই মনে করাতে বা বিশ্বাস করাতে দুর্নীতিবাজ নেতাদের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনকারী হয়তো কোন অবদান থাকতে পারে অথবা কোন না কোন কারনে লাভের আশায় আওয়ামী পরিবারে অনুপ্রবেশ করেছেন) 'নেত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে’ তাহলে আওয়ামী রাজনীতিতে আপনার আর থাকার যোগ্যতা নাই, আপনার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গিয়েছে এখন আপনি দয়া করে দল ত্যাগ করে অন্যকিছু করুন। 

এখন আপনার এই যুক্তিটাকে আমি একটা বিশ্লেষণ করি, নেত্রীকে ভুল বুঝানো হতে পারে, চেষ্টা হতে পারে তার সম্ভাবনা আমি উড়িয়ে দিচ্ছিনা। কেউ ভুল বুঝালেই আমার নেত্রীর বুঝাপড়ায় কোন ভুল হতে পারেনা বা হয়নি এবং নেত্রী সিদ্বান্ত নিয়েছেন সজ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে এবং নেত্রীর সিদ্বান্ত ছিল সুচিন্তিত। আপনারা যারা মনে করেন অন্যকেউ বুঝালেই নেত্রী ভুল সিদ্বান্ত নেন আপনাদের আর আওয়ামী লীগে দরকার নেই, আপনারা মানে মানে কেটে পড়েন। নেত্রীর সিদ্বান্তে যারা আস্থা রাখতে পারেন না তাদের আদর্শে সমস্যা আছে। মনে রাখবেন, আপনার অবদানে বা আপনার বিচক্ষনতায় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ চারবারের মত সরকার গঠন করে নাই, উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছেনা, বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় নাই -এই সবই একমাত্র শেখ হাসিনার বিচক্ষনতায় বা দুরদর্শিতায় সম্ভব হয়েছে। সবই করেছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা আর তার আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে আর আপনি তার দলের কর্মী হয়ে দাপটের সাথে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। এবং ঠিক এই কারনেই অর্থাৎ বিচক্ষনতা, দুরদর্শিতা ও সিদ্বান্ত নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারনে শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেত্রী, আজ তিনি শুধু বিশ্বনেত্রী নন বিশ্বেরও সেরা নেত্রী বটে।

পরিশেষে, একজন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে যতটুকু বুঝি তাতে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, কষ্ট যতই হউক আমাদেরকে ধৈর্যের সাথে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পু্র্নআনুগত্য, আস্থা, বিশ্বাস অবিচল রেখেই উনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, আদেশ, নির্দেশকে সাদরে গ্রহণ করে সকলের যে নৈতিক দায়িত্ব তা যথাযথভাবে পালন করা উচিৎ। আমাদের আবেগকে পুঁজি করার বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিতে চাচ্ছে, দুর্নীতিবাজরা আর এখানেইতো ঢুকে যাচ্ছে সকল অপশক্তি গুলোর সম্মিলিত তান্ডবলীলা। ধ্বংসাত্মক ও লুটেরা অতীতের চেয়েও ভয়ংকর ও পরিকল্পিত। কাজেই আমরা ও আমাদের সাধারন সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে। স্লোগান হোক একটাই -দুর্নীতি নিপাত যাক, দুর্নীতিবাজ সাজা পাক। শেখ হাসিনার নির্দেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ -ইকবাল আহমেদ লিটন

পাঠকের মন্তব্য