শেখ হাসিনাকে নিয়ে যত স্বপ্ন আর যত চিন্তা

শেখ হাসিনাকে নিয়ে যত স্বপ্ন আর যত চিন্তা

শেখ হাসিনাকে নিয়ে যত স্বপ্ন আর যত চিন্তা

ইকবাল আহমেদ লিটন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার ঘাতকের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন। প্রথমত, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট। ভাগ্যগুণে বিদেশে না থাকলে তখনই মরতে হতো একসাথে পরিবারের সবার সঙ্গে। আমরাও একদিন এসে ভুলে যেতাম বর্তমান বাংলার আশীর্বাদপুষ্ট নেত্রী শেখ হাসিনাকে মাতা ফজিলাতুন্নেসার মতোই। কামাল, জামাল, রাসেলরাও এখন আমাদের স্মৃতিতে আর সেভাবে নেই। শুধু কয়েকটা বাৎসরিক সভা, সমাবেশ আর টুর্নামেন্টের সুবাদে আমরা স্মরন করি তাঁদের অন্যভাবে। শেখ হাসিনার বেলায়ও হয়তো তেমনি কিছু হতো। কিন্তু বিধাতার কি’ জানি খেয়াল, তাঁর অশেষ কৃপায় বাঁচিয়ে রাখলেন এই বঙ্গকন্যাটিকে। হয়তো, বাংলার রূঢ়বাস্তব হাজার বছরের ইতিহাসের ক্যানভাসটায় এবার থেকে আর লালরং ছিটাবেননা তিনি, তুলিতে এবার মমতায় মেশানো সবুজ রং মাখিয়ে নিয়ে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন। কুচক্র মহল ও দুর্নীতিবাজদের চাকাটাকে এবার চুরমার করে দিবেন, দয়া করবেন জাতিটাকে। ফিরিয়ে দিবেন আগের সেই হারিয়ে যাওয়া মর্যাদা। পৃথিবীর চিত্রটায় সেটি একটা বিরল মুক্তোর মতোই জ্বলজ্বল করে সবার দৃষ্টি কাড়বে। কালীদাস সাগরের সেই ভাটির রাজ্যের মতো। যে রাজ্যে তখন বিদেশীরা মুক্তো কুড়োতে আর বানিজ্য করতে আসতো বিশাল সব বানিজ্যপোত নিয়ে।তার’ই কিছু যেন দেখতে পাচ্ছি আমরা এখন।

২০০৪ সালে ২১শে আগষ্ট আরেকবার বেঁচে গেলেন তিনি অলৌকিকভাবে। এবার আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছিলো ঘাতকরা। একে একে বারোটা আর্জেস গ্রেনেড ছোঁড়া হলো তাঁকে লক্ষ করে, চব্বিশজন শহীদ হলেন, ক্ষতবিক্ষত হলো শতশত। শেখ হাসিনাকে মৃত মনে করে বীরদর্পে চলে গেল ঘাতকরা, কিন্তু পেছনে রেখে গেল ইতিহাসের আরো একটা করুন অধ্যায়। কিন্তু তারা জানলোনা, এটা করে তাদের কোনো লাভ তো হয়ই নি, বরং বাংলার বুকে চিরদিনের মতো তাদের এবং তাদের ভাবধারার পুঁথির কবর রচিত হয়েগেলো। তাদের উদ্দেশ্য বহু পুরোনো, সবারই তা জানা। শেখ হাসিনা মরে গেলেই যেন তাদের শেষ বাধাটা দুর হয়ে যেতো। বাংলাদেশের বুকে শকুনিদের চিরস্থায়ী রাজত্ব কায়েম হয়ে যেতো। পেয়ারে পাকিস্তান, আফগানিস্তান আর বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা হয়ে যেতো। বিশ্বের মিডিয়াগুলো পাকিস্তান আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশকেও সংবাদের শিরোমনি বানিয়ে রাখতো। দক্ষিণপূর্ব এশিয়া গরম গরম খবরে কম্পমান হয়ে থাকতো। তালেবানি হামলা, গাড়িবোমা হামলা, আত্মঘাতী বোমা হামলা, স্কুল কলেজ পোড়ানো, মালালাদের মতো মেয়েদের গুলি করে মেরে ফেলা, আরো কতো কি চমক লাগানো সব গরম খবরের হেডিং হয়ে যেতো আমাদের এই সোনার বাংলা। আর ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা থাকতাম জাতিসংঘের আশ্রয় শিবিরে, এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা বাহিনী হয়তো আমাদের পাহারা দিত। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, বিধাতার কি যেন শুভ ইচ্ছে আছে এই দুঃখিনী সোনার বাংলাকে নিয়ে। হয়তো তাই তিনি বারবার বাঁচিয়ে দিচ্ছেন এই কিংবদন্তী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে। বেশিদুর যাবার দরকার নেই। 

২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাবার আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নিজের জীবন দিয়ে হলেও বাংলাদেশকে তিনি কলঙ্কমুক্ত করবেন। সেজন্যে প্রথমেই তিনি চিহ্নিত করেছিলেন বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের এদেশের দোসরদের। তিনি আরো বললেন, যুদ্ধাপরাধীরা যতদিন এদেশে থাকবে ততদিন তাদের ষড়যন্ত্র শেষ হবেনা। তাই তাদের বিচার করা দরকার এবং দৃঢ় পদক্ষেপে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আর বানচাল করা গেলনা। সে প্রশ্ন যখন সামনে এলো, যখন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলো, তখন গণতন্ত্রের ঢাল হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সাকা চৌধুরি (খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা) বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকেও তাঁর পিতার মতো ভাগ্য বরন করতে হবে। তিনি নিজেও তখন যুদ্ধাপরাধী। আরও কথা বলার উদ্দেশ্যই ছিলো, ষড়যন্ত্রকারীদের সাহস এবং উৎসাহ যোগানো। মাঝে বিরতিহীন জ্বালাও, পোড়াও, ঘেরাও হরতাল অবরোধ যন্ত্রনা, ওসবতো কম হলোনা। তারপর এই চলতি মাসেই বিএনপির আরেক সন্ত্রাসী নেতা শামসুজ্জামান দুদুও টকশোতে সরাসরি একই রকম হুমকি দিলো, এই কি তাদের/বিএনপির রাজনীতিবিদদের কলাকৌশল? তাদের কাছে এটাই হলো গণতন্ত্রের ভাষা। বিএবনপির প্যাঁচাল পেড়ে এখন দরকার নেই। কারন সরিষার মধ্যেই এখন ভূত/ নিজদের মধ্য এমনকিছু মীর জাফর ও খুনী মোস্তাক ও দুর্নীতিবাজ অবস্থান করছেন যে স্বার্থের জন্য তারা সবই করতে পারে।

আমি মনে করি, আমার চেয়েও অনেক বেশি ভুক্তভোগী আছেন অনেকেই। এ কারনেই প্রিয় নেত্রীকে নিয়ে ভয় হয়, কখন জানি কি অলুক্ষুনে করে বসে দুর্নীতিবাজ ও খুনী মোস্তাক গংরা? যাইহোক, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ছিল ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, সে তো পরিচিত মুখ তাহলে কিভাবে সে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হলো? একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হলো? সে শুধু পদ নিয়ে বসে থাকেনি এমনকি দাপটের সাথে চলাফেরা করেছে সাথে ৬ জন গানম্যানও তার বডিগার্ড। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। এনার মত লোক কি করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে? তাহলে কি আমাদের নেত্রী ঝুকিমুক্ত নাকি ঝুকিযুক্ত? আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম? আমি মনে করি, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সরকারি দল, বিরোধী দল সহ সকল রাজনৈতিক দল থেকে প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন হিসাব করে একটা সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে, পুলিশের কিছু লোককে এই হিসেবে ঢুকাতে হবে, এভাবে দুই আড়াইলক্ষ লোককে ক্রসফায়ার বলেন, ব্রাশফায়ার বলেন আর সরাসরি ফাঁশি বলেন, ওদেরকে পরপারে পাঠিয়ে দিলেই বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এটা কেবল একমাত্র বাংলাদেশের মানুষের শেষ ঠিকানা সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব যেমনটি করা হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে। যদি এটা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আর কেউ করতে পারবে না। শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশের যত রাজনীতিবিদ আছেন সবাই মেরুদণ্ডহীন, তাই এখনই সময় এটা করার। একমাত্র লৌহমানবী শেখ হাসিনাই যোগ্য ব্যক্তি তিনি আবার যমদূত দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে।

পরিশেষে, বাংলার বুকে যত হাঙ্গামা করা হয়েছে, ঝড় এসেছে, আরো যত উদ্ভট চাপই দেয়া হয়েছে, বা বাহির থেকে যত ভারী চাপই এসেছে, সবই কিন্তু শেখ হাসিনার উপর দিয়েই বয়ে গেছে। নিজ দায়িত্বে অটল থেকে তিনি একাই সবাইকে সাহস যুগিয়ে গেছেন। জনগনকে সাথে নিয়ে এসব আপতকালীন দূর্যোগকে দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করেছেন। তাই প্রিয় নেত্রী বাঁচলে, বাঁচবে দেশ আর প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। ভাল থাকুক প্রিয় নেত্রী, ভাল থাকুক বাংলাদেশ, ভাল থাকুক বাংলার মানুষ।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ -ইকবাল আহমেদ লিটন

পাঠকের মন্তব্য