লোকমান আমার বন্ধু, আমাকে বলেনি ক্লাবে ক্যাসিনো আছে

লোকমান আমার বন্ধু, আমাকে বলেনি ক্লাবে ক্যাসিনো আছে

লোকমান আমার বন্ধু, আমাকে বলেনি ক্লাবে ক্যাসিনো আছে

নাজমুল হাসান পাপন যে কোনো সংবাদ সম্মেলন করছেন, পাশ দিয়ে উঁকি দিচ্ছেন লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। টিভি চ্যানেলে এমন দৃশ্য এবং পত্রিকার স্পোর্টস পাতায় এমন ছবি ছিল দেশের ক্রিকেটের জন্য নিয়মিত ঘটনা।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার খুব বেশি হৃদ্যতা ছিল। লোকমান হোসেন এখন ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে আটকে পড়ে আইনের জালে, র‌্যাবের কব্জায়। র‌্যাব তার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। অবৈধ বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কথা বিসিবি পরিচালক ও মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া স্বীকার করেছেন। অবৈধ ক্যাসিনো থেকে অর্জিত কোটি কোটি টাকা তিনি দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকে জমিয়েছেন- র‌্যাবের দাবি জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান এসব কথা স্বীকার করেছেন।

বোঝাই যাচ্ছে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সহজেই ছাড় পাচ্ছেন না লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। লোকমানের এমনভাবে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিভাবে দেখছেন? তার ব্যাখ্যাটা কি? বিশ্লেষণ কেমন? সেই কৌতুহল ছিল ক্রিকেট মহলে তুঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে সব কৌতুহল মেটালেন শুক্রবার বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন-‘তাস খেলা আমি সারা জীবনেই দেখে এসেছি। এই তাস খেলা যে এখন ক্যাসিনোতে চলে এসেছে, এই ব্যাপারে সত্যি বলছি কোনো ধারণা ছিল না আমার। আমাকে লোকমান কোনোদিন বলেনি যে ক্লাবে একটি ক্যাসিনো আছে। এটা কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার। সে কিন্তু আমার বন্ধু। আমি নিজেও জানতাম না, আমাকে কখনোই বলেইনি। এখন দেখা যাক, সব বের হয়ে আসবে।’

বিসিবি সভাপতি দেশের ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপকে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন-‘এমন একটা সাহসী সিদ্ধান্ত তার পক্ষেই নেয়া সম্ভব, আর কারো পক্ষেই নেয়া সম্ভব না। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্লাব ভাড়া দিয়েছে। অবশ্যই সে যদি ক্যাসিনোর কাছে ভাড়া দিয়ে থাকে এবং তার যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে বিচার হবে। এর বাইরে কিছু নয়। যারা থাকবে তারাই ধরা পড়বে। তাদের বিচার হবে। আমি আশা করি সুষ্ঠু বিচার হোক। আসল যারা দোষী তার ধরা পড়ুক।’

লোকমান হোসেন মোহামেডানের শীর্ষ কর্তা। বিসিবির পরিচালক। বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। বিসিবির সঙ্গে পেছনের বেশ কয়েক বছর ধরে জড়িত। এমন পরিচয়ে পরিচিতি ব্যক্তি যখন অবৈধ ক্যাসিনো, অবৈধ মদ এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশি পাচারের অভিযোগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন, তখন তো দেশের ক্রিকেটও বিব্রত হয়। লোকমানের সঙ্গী হিসেবে, বন্ধু হিসেবে নিশ্চয়ই নাজমুল হাসান পাপনও তেমনই বিব্রত?

নাজমুল এই প্রশ্নের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বললেন-‌ ‘দেখুন এখানে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই। আমি যা বুঝি কেউ যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হবে। বিব্রত না মানে আমি এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আগে জানি কি হয়েছে। আরও নাম আসতে পারে কারা কারা জড়িত। আগে জানি, বুঝি। এখনই কমেন্ট করার সময় হয়নি। তবে এটা সত্যি যে আমরা জানতামই না যে এমন কিছু হচ্ছে। যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আমি মনে করি এটার প্রতি পুরো দেশবাসীর পূর্ণ সমর্থন দেয়া উচিত। খালি আমার একার জন্য না, পুরো দেশবাসীর উচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা।’

পাঠকের মন্তব্য