সম্রাটদের সঙ্গে শোভন-রাব্বানীর গ্রেফতার দাবী বিএনপির

সম্রাটদের সঙ্গে শোভন-রাব্বানীরও গ্রেফতার চান মওদুদ

সম্রাটদের সঙ্গে শোভন-রাব্বানীরও গ্রেফতার চান মওদুদ

সম্রাটদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শোভন ও রাব্বানীরও গ্রেফতার চেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

চলমান অভিযান সম্পর্কে বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, এই অভিযান সফল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্রলীগের রাব্বানী ও শোভন এবং সম্রাটদের না ধরা হবে। এদের পেছনে যে মন্ত্রী-প্রভাবশালীরা আছেন, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ সব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ও বর্তমান সব মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব দেখাতে হবে জনগণকে। আমরা সব মন্ত্রী ও এমপির সম্পদের হিসাব দেখতে চাই। জনসম্মুখে এই হিসাব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এও জানতে চাই, মন্ত্রী-এমপি হওয়ার আগে তাদের কত সম্পদ ছিল এবং এখন কত বেড়েছে। যদি তারা (সরকার) এই দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই সংসদের প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা যায়।’

মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, একটি প্রতিবেদনে আজকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ নাকি পৃথিবীর এক নম্বর দেশ, যেই দেশে খুব দ্রুত ধনী হওয়া যায়। কারা ধনী হচ্ছে? এই জুয়াড়িরা, ক্যাসিনোওয়ালারা। আর যারা ব্ল্যাক মার্কেটিং করে তারা। ব্যাংকিং অবস্থা কলাপস হয়ে গেছে। এই সরকারের পরতে পরতে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। সরকারের এই ব্যর্থতার কারণে আজকে আমাদের এই দাবি উত্থাপন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের অঙ্গ-প্রতঙ্গে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। সরকার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। সে জন্য অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেতা ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী সে জন্য তিনি জেলখানায় দাবি করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, দুই কোটি টাকার একটা বানোয়াট মামলায় তাকে ১৭ মাস ধরে জেলখানায় রাখা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তার জামিন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। হচ্ছে না। সরকারের প্রভাবের কারণে। আদালতের বিচারকদের এখন আর কোনো স্বাধীনতা নেই। সে কারণে খালেদা জিয়া এখনও কারাবন্দি। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা চেষ্টা করছি, করে যাব। কিন্তু এটাতে যথেষ্ট হবে না। তার মুক্তির একমাত্র পথ হল রাজপথ।

সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ. সাদরেজ জামান, ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

এর আগে মওদুদ আহমদ জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

পাঠকের মন্তব্য