ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে হুমকির মুখে শতাধিক পরিবার

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে হুমকির মুখে শতাধিক পরিবার

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে হুমকির মুখে শতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের করাল গ্রাসে হুমকির মুখে শত শত পরিবার। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় দুধকুমার নদ ক্রমেই যেন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। দুধকুমার নদের পানি সহনীয় পর্যায় থাকলেও অসহনীয় হয়ে পড়েছে নদী ভাঙন। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের প্রায় ১ কিঃমিঃ এলাকার শতাধিক  বাড়িঘর, গাছপালা সহ  প্রায় আড়াই বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে ওই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর পাকা জামে মসজিদ,কবরস্থান সহ ঈদগাহ মাঠ। গত চার দিনের প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীভাঙ্গন।

বুধবার (২ অক্টোবর ) বিকালে সরজমিনে  উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী  ইউনিয়নের ইসলামপুর  গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটিতে যাওয়ার একমাত্র সেমি বাঁধ রাস্তাটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে তীব্র ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙ্গন কবলিতরা তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ধান-চাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গাছপালা কেটে নিরাপদ স্থানে নেয়ার চেষ্টা করছেন। আশ্রয়স্থল হিসেবে রাস্তা ও উচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ওই গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, আমার বসত ভিটা সহ গত তিন দিনে প্রায় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। 

এলাকাবাসী জানান, করাল গ্রাসী দুধকুমারের ভাঙনে প্রতিবছর শত শত পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমিন হারিয়ে সর্বশান্ত  হয়ে পড়ছে। বিপুল সংখ্যক গৃহহীন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আসছে না কেউ। সরকারিভাবেও তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা কপালে জুটছে না তাদের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সাহায্য করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ভাঙনে ভূমিহীন পরিবারগুলো অন্যের বাড়িতে কিংবা রাস্তার ধারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অবহেলিত দারিদ্র-পিড়ীত এলাকাটির আকস্মিক ভাঙ্গনে পূর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সাধারন মানুষ। দ্রুতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে অচিরেই ইসলামপুর গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য ও সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। 
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, দুধকুমার নদের উপর যে প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়েছে সেখানে ১৫শ মিটার ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এইচ.এম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর মাঝে ৩ মেট্রিক টন (জিআর) চাউল বিতরণ করা হয়েছে। নদী ভাঁঙ্গন প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ হাজার ৫শত জিও ব্যাগ ইতমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায়  ফেলানো হচ্ছে, এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য