তপুকে গুম করতে সম্রাট ও খালেদের কোটি টাকা লেনদেন ! 

তপুকে গুম করতে সম্রাট ও খালেদের কোটিকোটি টাকা লেনদেন ! 

তপুকে গুম করতে সম্রাট ও খালেদের কোটিকোটি টাকা লেনদেন ! 

রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মা আলহাজ সালেহা বেগম- যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ হোসেন ভূইয়ার দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, এতদিন নীরব ছিলাম। ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। কিন্তু এখন যদি চুপ করে থাকি বিবেকের কাঠগড়ায় নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। আমার ছেলে তপু কোনদিনও অন্যায় করেনি এবং যারা অন্যায় করেছে তাদের সাথে আপোষ করেনি। আর এই কারণেই আমার মেধাবী ছেলেকে অসময়ে গুম হতে হল। আজকে যাদেরকে নিয়ে আলোচনা সেই ক্যাসিনো সম্রাট ও খালেদ ভূইয়া আমার ছেলের কাছে প্রতিমাসে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল এবং আমার ছেলে তখন বলেছিল আমি ছাত্র। ছাত্র রাজনীতি করি। কোন দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে কেন আমি আপনাদেরকে চাঁদা দেবো?

সেই কারণে আমার ছেলেকে গুম করা হয়েছে এবং ক্যাসিনোর জুয়ার টাকা থেকে গুম করতে সেই সময় সাড়ে ৩ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। গুম করার পরে এ বিষয়ে আমি ৩০.০১.২০১৬ইং তারিখে ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরী করি। যার নং- ১৮৬৩। এরপর আমি একই থানায় সম্রাট ও খালেদের শীর্ষ সহযোগি যুবলীগের ইমন, তাজুল ইসলাম, শিবলু, তানিম, রইচ, অর্নব, জুয়েল, নিশি-সহ আরো নাম না জানা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করি। যার নং- ৩। তারিখ- ০১.০২.২০১৬, ধারা- ৩৬৫/৩৪ পিনাল কোড। তখন আমি ভয়ে সম্রাট ও খালেদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে পারিনি। 

এখন যদি সম্রাট ও খালেদকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাহলে আমার বিশ্বাস তপুকে কিভাবে গুম করা হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ বিষয়ে তারা বলতে পারবে। আমি আর কিছুই চায় না, আমি আমার সন্তানকে ফেরত চায়। আমার সন্তানের গুম হওয়ার কিছুদিন পরই তার পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ মো. মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার মা তপুর নানী মৃত্যু শয্যায় তপু তপু করছে। আমিও খুবই অসুস্থ। যেকোন সময় মৃত্যুবরণ করতেও পারি। মৃত্যুর আগে আমি আমার সন্তানকে আমার কোলে দেখে যেতে চাই। আপনারা জানেন, ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাত ১১ টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ্যাপোলো হাসপাতাল সংলগ্ন ব্লক নং- ডি, রোড নং- ১১, বাড়ি নং- ৩৫৩, ৩য় তলার ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তপুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে ৩ বার দেখা করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে ৩৭ বার। র‌্যাব মহাপরিচালকের সাথে ২ বার দেখা করেছি। এখনো কোন ফল পাইনি। বলতে পারেন আর কার সাথে দেখা করলে আমার হারানো মানিককে ফিরে পাবো। 
  

বার্তা প্রেরক 
সালেহা বেগম
গুম হওয়া মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মা
০১৯৩৭৫০০৬০০

পাঠকের মন্তব্য