আওয়ামী যুবলীগ কার্যালয়ে সরব যেসকল নেতাকর্মীরা 

আওয়ামী যুবলীগ কার্যালয়ে সরব যেসকল নেতাকর্মীরা 

আওয়ামী যুবলীগ কার্যালয়ে সরব যেসকল নেতাকর্মীরা 

সময়ের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। দলের বিভিন্নপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ও ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে সংগঠনের ভেতরে। বিতর্কিত নেতাদের এসব অপকর্মে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সংগঠনটির হাইকমান্ড।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গোয়েন্দা ফাইল দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের অপকর্মের বিষয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি এ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণের দুই নেতার বিষয়ে ইঙ্গিত করার পর সব মহলেই সরব আলোচনা শুরু হয়।

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে ইতোমধ্যে সংগঠনের দুইজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলার বাহিনী। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের আরো বেশ ক’জন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতা। 

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষনেতাদের অনেকেই এখন যুবলীগ নিয়ে চিন্তিত। আলোচিত হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি আরমান হোসেন, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া কি করে ফ্রিডম পার্টি থেকে যুবলীগে এলো, গ্রেফতার হওয়া অপর যুবলীগ নেতা জি কে শামীম কোন পথে যুবদল থেকে যুবলীগে পদ পেলো এসব নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা ।সবমিলিয়ে বড় ধরনে বিতর্কের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ পুরো যুবলীগ।

এই পরিস্থিতিতে যুগলীগে নতুন নেতৃত্ব আনা প্রয়োজন মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক। আর এ জন্যই দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই যুবলীগকে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের অন্যতম অঙ্গ-সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ। ক্ষমতাসীন দলটির ভ্যানগার্ডও বলা হয় যুবলীগকে। এই সংগঠনটি বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলায় রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখে আসছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলায় এবং বিরোধী দলে (আওয়ামী লীগ) থাকলে বিক্ষোভে রাজপথ কাঁপিয়েছে যুবলীগ। দেশের সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ যে সবচেয়ে শক্তিশালী, সেটি রাজনীতি সচেতনরা এক বাক্যে মেনে নেবেন। 

সংগঠন হিসেবে যুবলীগের প্রশংসা যেমন আছে, তেমনি বদনামও কম নয়। সেটি নেতৃত্বের কারণেই। চলমান মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের নাম চলে আসছে। অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। অনেকে গ্রেফতারের অপেক্ষায়। মোরসালিন, মনা, স্বপন, আরমানসহ আরও অনেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে । 

এই পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিতর্কিত নেতাদের আর চোখে না পড়লেও সংগঠনটির হারানো সুনাম রক্ষায় ও যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সরব কেবল ত্যাগি ও ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীগণ। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, কিছু নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসছেন, বসছেন এবং নেতাকর্মীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করছেন। তাঁরা হলেন-   
 
যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরব নেতাকর্মীগণ

সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, আওয়ামী যুবলীগ
প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, আওয়ামী যুবলীগ
প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী যুবলীগ  
প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, আওয়ামী যুবলীগ 
প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট বেলাল হোসেন, আওয়ামী যুবলীগ  
প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরোন, আওয়ামী যুবলীগ
প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল সাত্তার মাসুদ, আওয়ামী যুবলীগ
প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান, আওয়ামী যুবলীগ  
প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব মাখন, আওয়ামী যুবলীগ

যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, আওয়ামী যুবলীগ 
যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম শাহিন, আওয়ামী যুবলীগ 

সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদি, আওয়ামী যুবলীগ 
সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, আওয়ামী যুবলীগ    
প্রচার-সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, আওয়ামী যুবলীগ 
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু, আওয়ামী যুবলীগ 
কৃষি সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী যুবলীগ  

উপ-সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, আওয়ামী যুবলীগ  
উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসরীন সুলতানা শেফালি, আওয়ামী যুবলীগ 
উপ-সম্পাদক কাজী মাজাহার, আওয়ামী যুবলীগ 
উপ-সম্পাদক শ্যামল রায়, আওয়ামী যুবলীগ 
উপ-সম্পাদক নিজাম উদ্দিন পারভেজ, আওয়ামী যুবলীগ  

সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, আওয়ামী যুবলীগ 
সহ-সম্পাদক জহির উদদীন খসরু, আওয়ামী যুবলীগ
সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান পবন, আওয়ামী যুবলীগ 
সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, আওয়ামী যুবলীগ 
সহ-সম্পাদক এড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, আওয়ামী যুবলীগ
সহ-সম্পাদক তাজউদ্দীন আহম্মেদ, আওয়ামী যুবলীগ
সহ-সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, আওয়ামী যুবলীগ  
সহ-সম্পাদক মিল্লাত হোসাইন, আওয়ামী যুবলীগ  

কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান চপল, আওয়ামী যুবলীগ 
কার্যনির্বাহী সদস্য রওশন জামিল রানা, আওয়ামী যুবলীগ
কার্যনির্বাহী সদস্য এন আই আহমেদ সৈকত, আওয়ামী যুবলীগ
কার্যনির্বাহী সদস্য মুকিদ চৌধুরী, আওয়ামী যুবলীগ  
কার্যনির্বাহী সদস্য শামসুল ইসলাম পাটোয়ারী, আওয়ামী যুবলীগ 
নির্বাহী সদস্য হারিস হাসান সাগর, আওয়ামী যুবলীগ  
এডভোকেট মুক্তা আক্তার 
গিয়াস উদ্দিন আজম 
রাশেদুল ইসলাম সুক্ত

যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে আগামী নভেম্বরে সম্মেলন করার উদ‌্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আসবে নতুন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য