অবশেষে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার  

অবশেষে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার  

অবশেষে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার  

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব সদর দফতরের আইন ও গনমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভুইয়া রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে আটক করে র‌্যাব। এও জানায়, আজ রোববার (৬ অক্টোবর) তাকে আদালতে তোলা হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আলোচনায় আসে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সম্রাটের নাম। সম্রাট ছিলেন-ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসার পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। সেদিন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর সদলবলে কাকরাইলে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে রাতভর ছিলেন সম্রাট।

এরপর তাকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চালানো হবে বলে খবর প্রকাশের মধ্যে আত্মগোপনে থাকেন এই যুবলীগ নেতা। কার্যালয়েও তিনি নেই, বাড়িতেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অভিবাসন পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় সরকার। এছাড়াও তার যাবতীয় ব্যাংক হিসাব তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর যুবলীগ, কৃষক লীগ এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তালিকা অনুসারে, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার। আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাউন্সিলর আ ক ম মমিনুল হক সাঈদ।

সম্প্রতি সম্রাটের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদিকদের বলেছেন, ‘দেখবেন, আপনারা শিগগিরই দেখবেন। আপনারা অনেক কিছু বলছেন, আমরা যেটি বলছি ‘সম্রাট’ হোক আর যেই হোক, অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনব। আমি এটি এখনও বলছি- সম্রাট বলে কথা নয়; যে কেউ আইনের আওতায় আসবে। আপনারা সময় হলেই দেখবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকেই সম্রাটের গ্রেপ্তারেরর গ্রিন সিগন্যাল পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর পরই তাকে আটক করা হয় বলে জল্পনা শুরু হয়।

সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেববাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। সম্রাট যুবলীগে খুবই প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তী কাউন্সিলে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। যুবলীগের দিবসভিত্তিক কর্মসূচি এবং রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভাগুলোতে সবসময়ই বড় শোডাউন থাকত সম্রাটের লোকজনের।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বাধীন যুবলীগের এ ইউনিটকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছেন।

আলোচিত এ সম্রাট মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলেন। এটি তার নেশা। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা। সেখানেও সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত।

প্রথমসারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে। সিঙ্গাপুরে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম। এদের মধ্যে সাঈদ কমিশনারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

পাঠকের মন্তব্য