সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ আটক এনামুল হক আরমান

সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ আটক এনামুল হক আরমান

সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ আটক এনামুল হক আরমান

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে আটক হয়েছেন তার সহযোগী এবং ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান। তিনি পরিচিত সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ হিসেবে। বিএনপি থেকে এসে যুবলীগের পদ পান আরমান।

রোববার (৬ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর থেকে সম্রাটের সঙ্গে তাকেও আটক করা হয়।

ক্যাসিনোকাণ্ডে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও আরমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র সারওয়ার-বিন-কাশেম।

যেভাবে উত্থান আরমানের : একসময় খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় ‘বাউন্ডারি ইকবাল’ হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আরমান। ইকবালের যাতায়াত ছিল হাওয়া ভবনে। তার মাধ্যমে আরমানও হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ হন। শামিল হন বিএনপির রাজনীতিতে। পদ-পদবি না থাকলেও হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ বলে মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। 

বিএনপি আমলেই আরমান ফকিরাপুলের কয়েকটি ক্লাবের জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলে যুবলীগের মিছিলে হাজির হতে শুরু করেন আরমান। ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সম্রাটের। সম্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হলে সহসভাপতি করা হয় আরমানকে। সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আরমান। মূলত তাঁর মাধ্যমেই ক্যাসিনোজগতে প্রবেশ ঘটে সম্রাটের। ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট।

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে ‘লাগেজ ব্যবসা’ করতেন আরমান। পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য এনে বিক্রি করতেন বায়তুল মোকাররমে। একসময় সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় লাগেজ আনার ব্যবসা করতেন। সে সুবাদে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোর সঙ্গে পরিচয় হয় আরমানের। পরবর্তী সময়ে সম্রাটকে এই লাভজনক কারবারের ধারণা দেন তিনি। 

সম্রাটঘনিষ্ঠ যুবলীগের একাধিক নেতার বরাতে জানা যায়, আরমান নিজের টাকা দিয়ে প্রথমে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম কিনে আনেন ঢাকায়।

এভাবে আরমান হয়ে ওঠেন সম্রাটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দলের পদ দিয়ে তাকে আরও কাছে আনেন সম্রাট।

পাঠকের মন্তব্য