❝সুবিধাবাদী নেতা সম্রাট ফিরিস্তি❞ 

❝সুবিধাবাদী নেতা সম্রাট ফিরিস্তি❞ 

❝সুবিধাবাদী নেতা সম্রাট ফিরিস্তি❞ 

ইকবাল আহমেদ লিটন : ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আওয়ামী লীগের জন্য অন্তঃপ্রাণ মনে করেছিলাম। আসলে বাঙালির চিরাচরিত চরিত্র, কোনো কিছু না ভেবেই কাউকে বিশ্বাস করা, পরে সেটাই সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। সম্রাটও যে অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে, তা আগে কোনোদিন শুনিনি। গতকয়েকদিন আগে দৈনিক ইত্তেফাকের একটা রিপোর্ট পড়ে ও আজকে তিনি এরেস্ট হওয়ার পর সময় চ্যানেলের একটা প্রতিবেদন দেখে জানলাম, রাজউকের চাকুরিজীবি বাবার সন্তান ও বর্তমান ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রক, ফেনী ছাগলনাইয়ার সম্রাট নামের ঐ গিলটিও একসময় ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের সাথে উঠাবসা করতেন। পরে ১৯৯১ সালে যুবলীগে যোগদান করেন এবং ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে সুবিধাবাদী নেতাদের হাতে নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি দখল করে বিভিন্ন দল থেকে গিলটিদের নিয়ে এসে যুবলীগের বিভিন্ন পদে বসিয়ে দেন এমনকি তিনি যে বাড়িটার থেকে আটক হলেন সেটা স্থানীয় এক প্রভাবশালী জামাত নেতার বাড়ি। তার মানে আজকের আওয়ামী লীগের যে দূর্নাম রটেছে, তার জন্য সম্রাটই দায়ী হ্যা সম্রাটই দায়ী কিন্তু তাকে যারা আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছে তারা কি ধোয়া তুলশিপাতা? কারণ, তার হাত ধরে বিএনপি'র ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা যুবলীগে স্থান পেয়েছে। দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন সম্রাটদের মতো দলের সুবিধাবাদী, মুনাফাখোর ও সন্ত্রাসী নেতাদের মাধ্যমে অন্যান্য দল থেকে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে সুবিধাবাদী চোর -বাটপারদের দলে নিয়ে আসে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ জানেন না যে, চাঁদাবাজ, জুয়ারিরা অন্য দল থেকে এসেছে। সাধারণ মানুষ জানেন, তারা আওয়ামী লীগের লোক। সুতরাং তাদের যত রকম নষ্টামি-ভন্ডামি আছে, সবকিছুই দলের দূর্নাম বাড়াতে সহায়তা করে। এদের কারণে সরকারের যাবতীয় সফল কর্মকান্ড ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে দোষী সাব্যস্থ হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ ঘটে বিভিন্ন দল থেকে।

তারা ক্ষমতাসীন দলের কোনো সুবিধাবাদী নেতাকে ম্যানেজ করে দলে প্রবেশ করে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে দলের রাজনীতিকে কলুষিত করে। ফলে দলের আসল কর্মীরা অর্থ্যাৎ যারা হাজারো নির্যাতন সয়ে দুঃসময় পাড়ি দিয়ে দলকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেছেন, তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। যার ফলে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ফ্রিডম পার্টি থেকে আসা সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজেরা দলের বিশাল নেতা বনে যায় এবং রাজধানীসহ সারা দেশের ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সম্রাটের মতো বিএনপি পরিবারের সন্তান ও এক সময়ের ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক জি কে শামীম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টিয়ে সম্রাটের হাত ধরে যুবলীগের নেতা বনে যায়। এক সময়ের বিএনপি'র ক্যাডার শফিকুল আলম ফিরোজ (কালা ফিরোজ) বিএনপি'র ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর সম্রাটের মাধ্যমে যুবলীগ হয়ে কৃষক লীগের বড় নেতা বনে যায়। বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ও হাওয়া ভবনের কর্ণধার তারেক রহমানের ঘনিষ্ট এনামুল হক আরমান সম্রাটের হাত ধরে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহ সভাপতি বনে যায়। বিএনপি নেতা লোকমান হোসেনের ক্যাডার কমিশনার সাঈদ সম্রাটের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠে।এক সময়ের ফ্রিডম পার্টির নেতা ও বিএনপি'র মীর্জা আব্বাসের ঘনিষ্ট খালেদ ভুঁইয়া বিএনপি'র ক্ষমতা হারা হওয়ার পর মীর্জা আব্বাসের ঈশারায় সম্রাটের হাত ধরে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বনে যায়।বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালুর ক্যাডার বিএনপি নেতা লোকমান ভুঁইয়া মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক। সম্রাটের সাথে তারও ঘনিষ্ট যোগাযোগ আছে এখানে বলে রাখা ভাল শুধু সম্রাটই কিন্তু না, এমন সম্রাট অনেক আছে। চট্টগ্রামের পটিয়ার সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী যুবদল থেকে জাতীয় পার্টি হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সুতরাং পরিশেষে বলা যায় যে, সত্যিকার একজন মুজিব ভক্ত কোনোদিন দেশের ক্ষতি হয়, এমন কাজ করতে পারেন না। যারা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়াবাজি করে, সারাদেশে তাদের খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তারা সবাই অন্য দল থেকে এসে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের দূর্নাম করতে উঠে-পড়ে লাগে। সুতরাং শুধু সম্রাট না, টার্গেট হলো সম্রাটকে কারা আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছে বা দুর্নীতিবাজ এমপি, মন্ত্রীর বিচার এখন সময়ের দাবি। আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে 'কাউয়া'দের বিতারিত করে আসল আওয়ামী লীগে পরিণত হোক, সেটাই কামনা করি।

-লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন

পাঠকের মন্তব্য