আবরার হত্যা : শিক্ষার্থীদের দাবিতে ভিসির ‘নীতিগত’ সমর্থন

অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম

বুয়েট ছাত্র ফাহাদ আবরার হত্যার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে এসেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও কয়েকজন বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হলেই ঘিরে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

বৈঠক শেষে উপাচার্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। এ তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের সব দাবির প্রতি আমার নীতিগত সমর্থন আছে।’ তাবে এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে সুষ্পষ্টভাবে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। 

এসময় শিক্ষার্থীরা উপার্চকে দাবিগুলো পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন দাবিগুলো মানা হলো তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে চলে যেতে চান। এসময় ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে বুয়েট ভিসিকে তিরষ্কার করেন শিক্ষার্থীরা।

এত পরে কেন এলেন জানতে চাইলে ভিসি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে। সব তো আমার হাতে নেই।’

এর আগে আবরার হত্যার দুদিনেও ক্যাম্পাসে আসেননি ভিসি সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ আট দফা দাবিতে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসিকে বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, রবিবার ভোর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবরার ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তার বাবা বরকত উল্লাহ একজন এনজিও কর্মী, মা রোকেয়া বেগম কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার বড়। তার ছোট ভাই ঢাকা কলেজের ছাত্র।

পাঠকের মন্তব্য