ছাত্রলীগ বনাম অপশক্তি ও সমসাময়িক কথা

ছাত্রলীগ বনাম অপশক্তি ও সমসাময়িক কথা

ছাত্রলীগ বনাম অপশক্তি ও সমসাময়িক কথা

ইকবাল আহমেদ লিটন : প্রিয় পাঠক, ছাত্রলীগ নিয়ে ইতিবাচক ধারণাটা কেন যে পরিবর্তন হয় না, ছাত্রলীগ কার পাকা ধানে মই দিলো? আপনারা একজন অপরাধীর বিচার চান, না ছাত্রলীগের বিচার চান? যদি অপরাধীর বিচার চান তাহলে আমিও আপনার সাথে সমস্বরে রাজপথে বিচারের দাবিতে সব সময় পাশে থাকবো। আমিও ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমার হৃদয়ের সাথে সম্পৃক্ত তাই আমি মনে করি আমার ভালোবাসাও আমার যৌবনের প্রথম প্রেম এই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পিতা মুজিবের হাতে গড়া এই সংগঠন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ১৯৬৯ এর আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৯১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সতেরো হাজার নেতাকর্মীর জীবন আত্যহতি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচন সহ পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইতিহাসের পাতাকে রঞ্জিত করেছেন।

শুধু তাই নয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এমন একটি ছাত্র সংগঠন শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয় গোটা বিশ্বের একমাত্র সংগঠন যা সব সময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত। আপনি আপনার পারিপার্শ্বিকভাবে লক্ষ্য করুন দেখবেন যেখানে মানবতা হোছট খেয়েছেন সেখানেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুর্বার প্রতিরোধ করে তুলেছেন। দেশের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আপনারা ছাত্রলীগকে ধুয়ে দেন, কেন?

আসলে কি ছাত্রলীগ কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেই আপনারা আজ জোট বেধেছেন। ছাত্রলীগ যে কোন ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয় বলেই আপনারা ছাত্রলীগকে বিলীন করতে চান। না ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে এজন্যই আপনারা ছাত্রলীগ বিদ্বেষী। না ছাত্রলীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের শক্তি বলেই আজ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিগুলো ছাত্রলীগ বিদ্বেষী। লক্ষ করে দেখুন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে, কে বা কারা হত্যা করেছে। এদেশে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বলতে পারলে জাতে উঠা যায়, সুশীল হওয়া যায়! সংগঠন কখনো হত্যার নির্দেশ দেয় নাই, কিছু কুলাঙ্গার জড়িত, যার দায় সংগঠনের না! আর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান অভিযোগ শিবির ছাত্রদলের অনুপ্রবেশ!

এখানে খতিয়ে দেখতে হবে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে অথবা কোন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে কি না। অথবা আমি মনে করলাম ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। যারাই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাক না কেন তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আবরারের মায়ের মত অবস্থান নিয়ে বিচার করার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র আশা-ভরসার প্রতীক দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যেখানে একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী বিচারের জন্য সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছেন সেখানে আপনারা কারা দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন? আপনারা কি আবরার হত্যার বিচার চান না সরকারের পতন চান? কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনার দোষ অন্য কারোর উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক না। চলমান রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারা রাজনৈতিক কোন ফায়দা লুটতে পারছে না। বিএনপি-জামাতের ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের অত্যাচারে এক সময় ইউনিভার্সিটিগুলোর ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা কোন কথাই বলতে পারতো না। হল ক্যাম্পাস সাধারণ ছাত্রদের সেই কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিএনপি'র দালালেরা ভাড়াটিয়ার লোকেরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যে হিংস্রতা দেখাচ্ছে তার রোশানলেই তারা ধ্বংস হয়ে যাবেন।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মুল অভিযোগ অনুপ্রবেশ 

আমি জানি এবং আপনারাও জানার চেষ্টা করে দেখেন যে বুয়েট সবসময়ই শিবির অধ্যুষিত ক্যাম্পাস! গত কিছুদিন যাবৎ খুব লক্ষণীয়ভাবে চেষ্টা চলতেছে ভারতবিরোধী একটা প্রচারণার যে, ইলিশ - পিয়াজ - ফারাক্কা এবং এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর! তো সেখানেও নানা অপপ্রচার -গ্যাস বিক্রি, দেশ বিক্রি কিন্তু ভারতবিরোধী এসব প্রচারনা পানি পাচ্ছিলো না দেশে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলার কারণে। এবং বিএনপি-জামাত থেকে বলা হইছে ভারতীয় আগ্রাসন, দেশ বিক্রি, দেশ বিরোধী এসব চুক্তি ধামাচাপা দিতেই দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযান সরকারের নাটক! এবার আসেন আবরারের দেয়া স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে যে আবরার তার নিজস্ব মতামত দিয়ে এবং বিবিসি কর্তৃক মিথ্যা নিউজের উপর ভিত্তি করে একটা স্ট্যাটাস দিছে যেখানে আবরার কাউকে গালি বা কটুক্তি টাইপ কিচ্ছু বলে নাই! শুধুমাত্র এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এরকম নির্যাতন করে হত্যা করে ফেলা কতটা যৌক্তিক যেখানে দেশের বর্তমান অভিযানে বড় বড় নেতারা পর্যন্ত গর্তে লুকায় আছে, যে ছাত্রলীগের সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক পর্যন্ত পদ পজিশন হারায় সেখানে একটা ইউনিটের নেতারা কি এতোটাই গর্দভ যে এই সময়ে এই কাজ করবে? বৃহৎ কোন শক্তি যারা সবসময় ভারত বিরোধী, ধর্মীয় এবং যেখানে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বলতে পারলে জাতে ওঠা যায় সেই সব সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা আগেও হইছে এখনও হচ্ছে!

পরিশেষেঃ বুয়েটে আগেও সানি, দ্বীপ এরা শিবির দ্বারা নৃশংশ হত্যা হইছে, কই তখন তো সবাই মুখে মেশিন ঢুকায় ছিলেন! আর যেখানে আবরারের হত্যাকান্ডে তথাকথিত ছাত্রলীগের নেতাদের ইতিহাসের দ্রুত এবং ক্যাম্পাসে দৌড়ায় দৌড়ায় ধরা হইছে, তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হইছে, সেখানে ক্যাম্পাসে- ক্যাম্পাসে গায়েবানা জানাযা এবং আন্দোলনের হুমকি-ধামকি কিসের লক্ষণ? সবচেয়ে বড় কথা, অপশক্তি যে স্লোগান দিচ্ছে যে, ভারত বিরোধী স্ট্যাটাসের কারণে ভারতের দালাল আওয়ামী লীগ তাকে হত্যা করেছে এবং সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করা হচ্ছে! ইতিমধ্যে আবরারকে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রথম শহীদও ঘোষনা করা হয়ে গেছে! মোটকথা, আবারারের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক যা আপনারাও জানেন, আমিও খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তাহলে কি দাড়ালো? মরলো কে, আওয়ামী লীগ। বাঁশ নিলো কে? আওয়ামী সরকার। সব ঘটনার একটা বেনিফিশিয়ার থাকে! এখানে কারা বেনিফিশিয়ার? ইতিহাস বলে বেনিফিশিয়ার কোন না কোনভাবে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকে! 

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন

পাঠকের মন্তব্য