গাজীপুরের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুরের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুরের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুরের বোড বাজার ৫ মামলার আসামী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার গাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকার ভোক্তভোগীরা।

জানা যায়, ৫ মামলার আসামী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এমারত (৩২), নূর মোহাম্মদ শরীফ (৩৫), মো: শামীম (৩২), নয়ন সরকার (৩২), মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল (৩০), মাহফুজ মিয়া (২০), জাহিদুল ইসলাম (২২), রাকিব ওরফে পিচ্ছি রাকিব (১৯), পলাশ মিয়া (১৯), হাসিবুল রহমান (২০), জোবায়ের হোসেন জুয়েল (৩০) ও মো: ফয়সাল (২১) এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় ভোক্তভোগী এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তভোগীরা উল্লেখ করেন যে, তারা দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে গাছা থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। গত ১ অক্টোবর রানা মিয়া নামের এক ব্যক্তি গাছা থানা মামলা নং-০২, তারিখ-০১/১০/২০১৯, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩৪২/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে অপর মামলা করেছেন দেলোয়ার খন্দকার। যাহার মামলা নং-১৬, তাং-৩০/০৯/২০১৮, ধারা ৪৪৮/৪২৩/৩০৭/৩৭৯/৫১৭/৫০৪। এই মামলা আসামী করেছেন নূর মোহাম্মদ শরীফ, নয়ন সরকার, নাঈম মিয়া, মো: পলাশ, মাইন উদ্দিন, আকাশ মিয়া, মো: ইয়াছিন, মো: ফালু। অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেন নাহিদুর রহমান খান শিপলু। যাহার মামলা নং-০২, তাং-০২/১০/২০১৮, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩২৪/৩২৬ৎ৩৭৯/৫০৬/১১৪। 

এই মামলায় আসামী করেছেন নুর মোহাম্মদ শরীফ, শামীম সিদ্দিক, শামীম আল কায়ছার, নয়ন সরকার, মো: নায়েম, পলাশ মিয়া, আবুল হায়াত, মাইন উদ্দিন মানিক, আনিছ খন্দকার, হালিম খান, মনির মোল্লা। ও আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন দেলোয়ার সিকদার বাদী হয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ একটি মামলা দায়ের করেছেন মামলা নং-১৭, তারিখ-৩০/০৯/২০১৮, ধারা-১৪৩/৩০৭/৩২৩/৩৭৯/৪০৭/১১৪। এছাড়াও মিনারুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ১টি অভিযোগ করেন। অভিযোগ করেন মিনারুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন যাবত উত্তর খাইকৈর আব্বাস মেম্বারের বাড়ির রোডে হাবিব মার্কেট বিকাশ ও ফ্যাক্সলোডের ব্যবসা করেন। নূর মোহাম্মদ শরীফ, এমারত হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল, নয়ন সরকার, জোবায়ের হোসেন জুয়েল, মাহফুজ মিয়া, রাকিব ওরফে পিচ্ছি রাকিব, পলাশ, ফয়সাল, সাকিব তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। মাদকাসক্ত ও প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। বিবাদীরা দলবলসহ এলাকার নিরীহ মানুষের উপর বিভিন্ন ভাবে অন্যায় অত্যাচার করে থাকে। তাছাড়া বিবাদীরা এলাকায় বিভিন্ন বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সাধারণ লোকজন তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। 

সন্ত্রাসীরা ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টায় তার মায়ের আচল নামক দোকানে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাদের হাতে থাকা ধারালো ছোরা, সুইস গেয়ার, লোহার কাটার, লোহার রড, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বেআইনীজনতাবদ্ধে তার দোকানে আসিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমতাবস্থায় মিনরুল ইসলাম খান প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা তার উপর এলোপাথারীভাবে মারধর করে এবং তাহার ডান পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। তার আত্মচিৎকারে তার ভাতিজা তারেক খান ও ছোট ভাই রায়হান বিবাদীদের সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হন। মিনারুল ইসলাম খান আরো জানান যে, নূর মোহাম্মদ শরীফের হুকুমে এমারত তার ভাই রায়হানকে এলোপাথরীভাবে কিল ঘুষি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে এবং আসামী জোবায়ের হোসেন জুয়েল আমার ভাই রায়হানকে গলা চাপিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং রায়হানের পকেটে থাকা ১৫০০ টাকা নিয়ে যায়। আসামী মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল রায়হানের হাতের একটি সম্পনী মোবাইল সেট নিয়ে যায়। নূর মোহাম্মদ শরীফ, এমরাত হোসেন ও জোবায়ের হোসেন জুয়েলগণ অনধীকারে আমার দোকানের ভিতরে প্রবেশ করিয়া দোকানের ক্যাশ বক্সে রক্ষিত নগদ ৪,৪০,০০০/- টাকা জোর পূর্বক নিয়া যায়। তাদের ডাক চিৎসার শুনিয়া আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা এই মর্মে হুমকি দেয় যে, পরবর্তীতে সময় সুযোগমত পাইলে আমাদেরকে খুন জখম করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে মর্মে হুমকী দিয়া চলিয়া যায়। অতপর স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এব্যাপারে নূর মোহাম্মদ শরীফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক ভাবে যুবলীগ নেতার মশিউর রহমান মশির প্রতিহিংসার স্বীকার। আমি একটি কলেজে শিক্ষকতা করি। এছাড়াও আামর স্ত্রী ও আমি একটি স্কুল পরিচালনা করি। 

আমার পাশে আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুবলীগ নেতার লোকেরা এলাকার প্রতিটি ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০টাকা করে চাঁদা তোলতেন। আমি তাদের পক্ষ নিয়ে বর্তমানে চাঁদা তোলতে প্রতিবাদ করি। আমার বিরুদ্ধে এলাকার কোন মানুষ একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না। যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা গাছা থানা যুবলীগ নেতার লালিত পালিত সাঙ্গপাঙ্গ। ইতিপূর্বে যেই শিশুটিকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে আমি তাকে চিনি না এবং তার আত্মীয়স্বজন কাউকেই চিনি না। পরবর্তীতে জানতে পারলাম সে একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ছেলেটি যেই বিদ্যালয়ের ছাত্র ওই বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমি তা মাথা পেতে নিব। একে একে যুবলীগ নেতার মশির সাঙ্গ পাঙ্গ দিয়ে একের পর এক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছে। 

এক বছর পূর্বেও আমি এরকম প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে ১১টি মামলার মুখোমুখি হয়েছি। আমি সরকারের উচ্চ মহলের কাছে ও গাজীপুরের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে জোর দাবী করছি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিকার চাই। গোপনে তারা যাচাই বাছাই করে দেখুক আমি যদি অপরাধী হই তা হলে আমার বিরুদ্ধে ্আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এব্যাপারে গাছা থানা ওসি ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই গ্রুপে মারামারি হয়েছে। এক গ্রুপ চাঁদাবাজী করতো, আরেক গ্রুপ প্রতিবাদ করতো। যে কেউ মামলা দিলে আমরা মামলা নিতে প্রস্তুত। নূর মোহাম্মদ শরীফসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে একে একে ৫টি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। অপরাধী যেই হউক তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

পাঠকের মন্তব্য