বাড়ছে প্রবাসী আয়; প্রণোদনার ব্যবহার নিশ্চিতের পরামর্শ

বাড়ছে প্রবাসী আয়; প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের পরামর্শ

বাড়ছে প্রবাসী আয়; প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের পরামর্শ

বাড়ছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর শেষে তা ২০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে আশা করছে সরকার।  

রেমিটেন্স আয় বাড়াতে প্রথমবারের মতো প্রণোদনা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাজেটে। ২০১৪ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে সম্মাননা পুরস্কারও। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সাধারণ পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক ও রেমিট্যান্স প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউজসহ মোট ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছে। গেলো ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। এজন্য চলতি বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থবছর শুরুর তিন মাস পর প্রাথমিকভাবে ছাড় করা হয়েছে বরাদ্দ দেয়া অর্থের অর্ধেক। সার্বিকভাবে অর্থছাড় এবং সেই অর্থ ব্যাংকগুলোতে বন্টনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট, ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যাদের জন্য প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তারা পাচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর কোনটি রেমিটেন্স আর কোনটি নয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। অন্য লেনদেনও নজরদারিতে রাখতে হবে। যাতে প্রণোদনার জন্য অন্যকোন লেনদেন রেমিটেন্সের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত না হয়। অতীত অভিজ্ঞতা না থাকায় জটিলতা এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।

গেল সেপ্টেম্বর মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ২৯ শতাংশ। যা টাকার অংকে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। মাসের হিসেবে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। চলতি বছরের মে মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৬.৪২ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪.৯৮ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি ছিল।

বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আহরণ করে ভারত। যার পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা, তারা বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আয় করে।

পাঠকের মন্তব্য