কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো আসছে আন্তঃনগর ট্রেন

কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো আসছে আন্তঃনগর ট্রেন

কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো আসছে আন্তঃনগর ট্রেন

কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নামের আন্তঃনগর ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে সদ্য আমদানি করা অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বগির ট্রেনটির চলাচল আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। এজন্য শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। 

দরিদ্রপীড়িত এই অঞ্চলে মানুষ সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ট্রেন যাতায়াত থেকে বঞ্চিত ছিল। লালমনিরহাটের তিস্তা জংশন থেকে কুড়িগ্রামের রমনাবাজার সেকশনে মাত্র ২টি লোকাল ট্রেন দিনেরাতে ৪বার চলাচল করে। যার সাথে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে যাওয়ার ট্রেনের কোন সংযোগ নেই। সম্প্রতি শাটল ট্রেনের মাধ্যমে রংপুর এক্সপ্রেসের সংযোগের ব্যবস্থা করা হলেও তা যথেষ্ট নয়।

এ অবস্থায় নতুন এই আন্তঃনগর ট্রেনটি বুধবার বাদে সপ্তাহে ৬দিন সরাসরি কুড়িগ্রাম থেকে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছবে। আবার ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে পরদিন ৬টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রামে পৌঁছবে। ফলে যাতায়াতে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন এখানকার মানুষ।

এখানকার স্থানীয় যাত্রীরা বলেন, মানুষ বিভিন্ন উৎসবে যাতায়াতে যে জনদুর্ভোগের স্বীকার হয় তা কমবে। সেইসঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যেও উন্নতি হবে।

ট্রেনটি চালু হলে শ্রমজীবী মানুষ নিরাপদে স্বল্প খরচে এবং কম সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করতে যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানালেন কুড়িগ্রাম সদর কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল।

তিনি বলেন, আমাদের এখানকার মানুষেরা অল্প খরচে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হবে।

ট্রেনটি ১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াতে রংপুর, বদরগঞ্জ, পার্বতীপুর, জয়পুরহাট, শান্তাহার, মাধনগর ও ঢাকা বিমানবন্দর- এই ৭ স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে বলে জানালেন রেলওয়ের এই কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এখানকার মানুষ নিরাপদে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে। 

শুধু আন্তঃনগর ট্রেনই নয়- এ জেলার মানুষের উন্নয়নে এখান থেকে অনেক কর্মসূচি চালু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন। তিনি বলেন, এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত যে স্বপ্ন সেটি পূরণ হবে। একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি কুড়িগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে।  

এই ট্রেনে যাতায়াতে প্রতিজনের জন্য শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ১৬৮ টাকা, এসি বাথ ১ হাজার ৮০৪ টাকা টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

পাঠকের মন্তব্য