সোনারগাঁয়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

সোনারগাঁয়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

সোনারগাঁয়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে চলছে হরদম  দুর্নীতি ও অনিয়ম।আর এ দুর্নীতির মূল কারিগর হলেন ইউপি সচিব মহিউদ্দিন।বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে  এলাকার নিরীহ ও সাধারণ জনগনকে।সূত্র জানায়,  নিয়মনীতি না মেনে সচিব তার মনগড়া মতে চালাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠেছে।ফলে  ইউনিয়নে সরকারী নানান সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনৈতিক ভাবে অর্থ আদায়ে ফুঁসে উঠেছে সম্ভুপুরা ইউনিয়নের সাধারন জনগন।

অথচ উপজেলা সম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো.আব্দুর রউফ জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সচিবের এমন অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারনে ইউনিয়ন পরিষদের সকলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় জনসাধারনের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মহিউদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ ইউপি সদস্য ও জনগণের সাথে অসদাচরণ করে আসছেন। এতে জনগনসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। তার আচার-আচরণ ও ব্যবহার অত্যান্ত আপত্তিজনক। তিনি সঠিক ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কাজকর্ম করেন না। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না। তাই অনতিবিলম্বে ব্যাবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা । তা না হলে এলাকার অনেক ক্ষতি সাধন হবে। অন্যদিকে,  ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র সচিবের দোহায় দিয়ে, অনলাইনের ফি এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিমাসে ১০ থেকে ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকে, এছাড়া জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন, জন্মের ও মৃত্যুর প্রথম দিন থেকে পয়তাল্লিশ দিন পর্যন্ত সরকারি,বিধিমালা অনুযায়ী কোন টাকা লাগেনা, তারপরও সচিব নিচ্ছে (১০০/-) একশত টাকা, ছয়চল্লিশ দিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত (২৫/-) পঁচিশ টাকার কথা থাকলেও সচিব নিচ্ছে (১০০/-) একশত টাকা, পাঁচ বছরের উপরে যত বছর হোক (৫০/-) পঞ্চাশ টাকা, নেওয়ার কথা থাকলেও ঐ দুর্নীতিবাজ নিয়মভঙ্গকারী সচিব মহিউদ্দিন নিচ্ছে (১৪০/-) একশত চল্লিশ টাকা, উত্তরাধিকারি সনদ কোন টাকা লাগবেনা, সরকারি ভাবে নিষেধ থাকলেও সচিব মহিউদ্দিন নিচ্ছে (৫০০/-)  টাকা, এ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা। এ ছাড়াও ইউপি সচিব মহিউদ্দিনের বড় ভাইকে দিয়ে সম্ভুপুরা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম থেকে আয়করের নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে  নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে তদন্তে বেরিয়ে আসে পরিষদের আসল রুপ, কেউ যদি কোন সনদের জন্য আবেদন করেন, তাহলে অতিরিক্ত বিভিন্ন হারে টাকা চেয়ে থাকেন পরিষদের লোভী সচিব মহিউদ্দিন, এবং নিরীহ ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়, তাছাড়া কেউ যদি সনদের অতিরিক্ত ফি দিতে রাজি না হয়, ঐ কাজ রাখতে রাজি হয়না ঐ দুর্নীতিবাজ সচিব। 

এ বিষয়ে সম্ভুপুরা ইউপির এক সদস্য জানান, সচিব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না । সম্ভুপুরা আমজনতাকে জিজ্ঞেস করলে তারাই বলে আসলে ওনার কারনে মানুষ কতটা অতিষ্ট। এ ছাড়াও, এলাকাবাসী জানান, আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে মৌখিক ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছি। তবে এখনো প্রতিকার দেখিনি।

সম্ভুপুরা ইউনিয়নের আরেকজন ইউপি সদস্যর কাছে জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আহারে! আমরা আর পারছিনা। আমরা উপরে অভিযোগ করেছি কোনো কিছুই হয়নি। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সত্য। এলাকার মানুষ তার বড় প্রমান।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব মহিউদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- এসব অনিয়মের সাথে আমি জড়িত নয়। হয়তো কারো আবদার রাখতে পারিনি তাই এসব বলা হচ্ছে। আমি সরকারী ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি নেই না।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি লিখিত অভিযোগ পায়নি। মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সু-নির্দিষ্ট প্রমান পেলে বিধি অনুযায়ী  ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য