বরগুনায় ভুয়া মাদ্রাসার নামে লাখ টাকা আত্মসাৎ

 বরগুনায়

বরগুনায়

কাগজে আছে ভুয়া মাদ্রাসার নাম। ভুয়া নথিতে দেখানো হয়েছে ছাত্র সংখ্যা আর শিক্ষক। বরগুনায় ‘ধূপতি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা’ নামে এমনি এক অদৃশ্য প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর এই মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এর পরিচালক জেলা জজ কোর্টের পেশকার দুলাল খানের বিরুদ্ধে।

প্রায় ৪০ বছর আগে, এলাকাবাসীর সহায়তায় বরগুনার গৌরীচন্নায় ধূপতি ফোরকানিয়া নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিন বছরের মাথায় ঝড়ের কবলে পড়ে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে সরকারের এমন আশ্বাসের পর বরগুনা জেলা জজ কোর্টের পেশকার দুলাল খান পশ্চিম ধূপতি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি নামে কাগজপত্রে একটি ভুয়া মাদ্রাসা তৈরি করেন। যার স্থান দেখানো হয় বিলুপ্ত ফোরকানিয়া মাদ্রাসাকে। জাতীয়করণের শর্ত পূরণের জন্য প্রথমে ভুয়া ব্যবস্থাপনা কমিটি তৈরি করেন তিনি। পরে, ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ ও যোগদানসহ সব ধরণের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। এমনকি, কাগজে কলমে মাদ্রাসায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীও দেখানো হয়। আর এসব কাগজপত্র তৈরির পর শিক্ষক নিয়োগের নাম করে তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

মাদ্রাসার শিক্ষক হবার আশায় যারা দুলাল খানকে টাকা দিয়েছেন এমন ভুক্তভোগীরা জানান, ‘তিনি বলেছেন তোমার চাকরি হবে। কিন্তু, এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।' এমন আশ্বাস দিয়ে অনেকের কাছ থেকেই দুলাল খান টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তারা কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করলেই হয়রানির মামলা দেয় বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।

তবে, বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলছেন দুলাল খান। আর এ নিয়ে কিছুই জানা নেই বলে মন্তব্য করেন কথিত মাদ্রাসার সভাপতি।

পশ্চিম ধূপতি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার পরিচালক দুলাল খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে জানান, এ সংক্রান্ত ব্যাপারে তিনি আকিছুই জানেন না। আর নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে তার নাকি কোনো ধারণাই নেই।'

এদিকে, মাদ্রাসার নামে প্রতারণার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ ব্যাপারে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে, এখন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

পাঠকের মন্তব্য