সাবেক সাংসদের নির্দেশে চলছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন 'হুজি'

সাবেক সাংসদের নির্দেশেই হুজি জঙ্গি সংগঠন চলছে দুবাই থেকে  

সাবেক সাংসদের নির্দেশেই হুজি জঙ্গি সংগঠন চলছে দুবাই থেকে  

খবরে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামি আল বাংলাদেশ অর্থাৎ হুজি-বি সংগঠিত করছে জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি শহিদুল ইসলাম। ২০০১ সালে বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জামাত ইসলামি সহ চার দলের জোট সরকার ছিল। সেই আমলে মুফতি শহিদুল ইসলাম সংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়।

হুজি জঙ্গি সংগঠনের নাশকতায় বারেবারে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সেই সংগঠনটি ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। উঠে আসে জেএমবি নব্য জেএমবি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম), হিযবুত তাহরীর সহ একাধিক উগ্র ইসলামি সংগঠন।

এই সংগঠনগুলি আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে।

সম্প্রতি নতুন করে হুজি-বি সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে ঢাকায় ফিরে নাশকতার চেষ্টা করছিল হুজি নেতা আতিকউল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার। তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জেরায় এই হুজি জঙ্গি জানায়, প্রাক্তন সংসদ সদস্য মুফতি শহিদুল ইসলাম দুবাই থেকে সংগঠন পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ জঙ্গি দমন শাখা কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট খতিয়ে দেখছে এই তথ্য।

রিপোর্টে বলা হয়েছে,ধৃত আতিকুল্লাহ আফগানিস্তানে গিয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেখানে তালিবান নেতা মোল্লা ওমর ও আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মতো প্রথমসারির আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতাদের সংস্পর্শে এসেছিল।

জেরায় সে জানায় বর্তমানে হুজি-বি সংঘটিত হচ্ছে দুবাই থেকেই। এই তথ্য পেয়ে চমকে গিয়েছেন সিটিটিসি গোয়েন্দারা। ধৃত জঙ্গির দেওয়া তথ্যে খালেদা জিয়া সরকারের আমলে প্রাক্তন সংসদ সদস্য মুফতি শহিদের নাম উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে-

১. আশির দশকের শেষ দিকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসে মুফতি শহিদুল ইসলাম।
২. এর পর এটা না ধর্মীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
৩. এনজিও খুলে আরব দুনিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল অর্থ সঞ্চয় করে।
৪. অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়।
৫. তারপরে বাংলাদেশ জুড়ে তার নাম ছড়ায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০০১ সালে মুফতি সরাসরি জাতীয় সংসদ সদস্য হয়।

এক নজরে হুজি-

১. ১৯৮৯ সালে তৈরি হয় এই সংগঠনটি।
২. ২০০১ সালে বাংলা বর্ষ বরণের দিন ঢাকা রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিস্ফোরণের দায় নেয়। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়।
৩. ২০০৪ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে খুনের ষড়যন্ত্র ও গ্রেনেড হামলায় জড়িত। এতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়, ২০০ জন জখম হন।
৪. সেই সময় বাংলাদেশের সরকারে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তাদের বিরুদ্ধে হুজির সঙ্গে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ।
৫. বিভিন্ন নাশকতার মামলায় হুজি-বি নেতাদের ফাঁসি সাহায্য সাজা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার

পাঠকের মন্তব্য