একজন ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

একজন ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

একজন ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া

‘যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া একজন ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী। এলাকায় তিনি গড়ে তোলেন বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী’।

খালেদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার অভিযোগপত্রে এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেনের দেওয়া অভিযোগপত্রটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ‘দেখিলাম’ লিখে তাতে স্বাক্ষর করেন বিচারক। অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা খালেদের বিষয়ে যে সারমর্ম উপস্থাপন করেছেন; তা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্য এবং উদ্ধার আলামত পর্যালোচনার মাধ্যমে করা হয়েছে উল্লেখ করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ১৯৯৬ সাল থেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগে সম্পৃক্ত হন। ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এলাকায় বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি একজন ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত হন। ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর, মুগদা, কমলাপুর, রামপুরা সবুজবাগসহ আশপাশের এলাকায় তিনি সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। সাধারণ মানুষ তার ভয়ে আতঙ্কিত ছিল।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মতিঝিল ইয়ংমেন্স ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে জুয়া, ক্যাসিনো, মাদকের রমরমা ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছিলেন। খিলগাঁও শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা আদায়, প্রতি ঈদে শাহজাহানপুরের কলোনি মাঠে মেরাদিয়া এবং কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ, খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতি রাতে শক্তির দাপট দেখিয়ে মাছের হাট বসিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করা ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।

অবৈধ জুয়া, মাদক, ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক দাপট বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য নিজ হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র রেখেছেন মর্মে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় তিনি অপরাধ করেছেন মর্মে উল্লেখ করা হয়।

খালেদের বিরুদ্ধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় অস্ত্র আইনের এই মামলা দায়ের করে র‌্যাব। এসব মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে খালেদকে। এরপর দ্রুততার সঙ্গে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।

এরই মধ্যে গত ২১ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক। তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকা জ্ঞাত আয় ব‌হির্ভূত সম্পদ অর্জ‌নের অভি‌যোগ আনা হয়। এই মামলায় আদালত রোববার (২৭ অক্টোবর) তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান।

ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান থেকে ক্লাবের সভাপতি খালেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (এর মধ্যে একটি অবৈধ), গুলি এবং ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্যাসিনো থেকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১৪২ জনকে আটক এবং ২৪ লাখ নগদ টাকা, বিদেশি মদ, ক্যাসিনো বোর্ড জব্দ করার পর খা‌লেদ‌কে গ্রেপ্তার করে।

এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর তার নামে গুলশান ও মতিঝিল থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মোট চারটি মামলা করা হয়। এর ম‌ধ্যে গুলশান থানার অস্ত্র মামলায় তার বিরু‌দ্ধে অভি‌যোগ দাখিল করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য