‘আমি উপদেষ্টা হই ওবায়দুল কাদের চান নাই’ 

‘আমি উপদেষ্টা হই ওবায়দুল কাদের চান নাই’ 

‘আমি উপদেষ্টা হই ওবায়দুল কাদের চান নাই’ 

ফেনীর আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চান নাই আমি দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হই। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বেসরকারি টেলিভেশন চ্যানেল আইয়ের ‌‌‘টু দ্য পয়েন্ট’ নামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গেল ৩ অক্টোবর তাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার খবর গণমাধ্যমে আসলেও সেসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

এরপরই এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে নিজের বক্তব্য তোলে ধরেন জয়নাল হাজারী। তিনি তখন নিজেকে দলের উপদেষ্টা দাবি করেন। এরপর বেশ ক’দিন বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল থাকলেও ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি জয়নাল হাজারীর কাছে পাঠানো হয়।

গেল সোমবার ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সালাম গ্রহণ করবেন। আনন্দের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দেয়া ক্ষমতাবলে আপনাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। আশা করি আপনার শ্রম, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সংগঠনের নতুন গতিবেগ সঞ্চারিত করতে সহায়তা করবে। আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।

এ বিষয়ে চ্যানেল আইয়ের ‌‌‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে জয়নাল হাজারি বলেন, আমি উপদেষ্টা হই ওবায়দুল কাদের সাহেব চান নাই। তার ধারণা (ওবায়দুল কাদের) আমি উপদেষ্টা হলে আমি ফেনী যাব। ফেনী আমার দখলে চলে আসবে। আমি যদি ফেনীতে অবস্থান করি ওবায়দুল কাদের ফেনীতে যেতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের সবচেয়ে প্রিয় জায়াগা হচ্ছে ফেনী। তিনি কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম গেলে ফেনী সার্কিট হাউজে থাকেন। সেখানে থাকতে তিনি পছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমি যদি ফেনীতে অবস্থান করি ওবায়দুল কাদের ফেনী সার্কিট হাউজে স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকতে পারবেন না। এছাড়া তিনি আমাকে নিয়ে অনেক কিছুই ধারণা করেন, আসলে তা বাস্তব নয়।

উল্লেখ্য, জয়নাল হাজারী ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী-২ (সদর) আসনে তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬-০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাজারীর বিরুদ্ধে ফেনীতে বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর অভিযোগ ওঠেছিল, যা ছিল সারাদেশে আলোচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ ছেড়েছিলেন হাজারী। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০৪ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

আট বছর দেশের বাইরে থাকার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে হাজারীও দেশে ফেরেন। তবে ফেনীতে তার সেই ‘রাজত্ব’ আর ফিরে পাননি তিনি। তার ওই নির্বাচনী আসনটি এখন নিজাম হাজারীর দখলে, তিনিও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে, সব মামলা থেকে খালাস পেলেও অনেকটা নিভৃতেই থাকছেন জয়নাল হাজারী। সাপ্তাহিক হাজারিকা নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনাও করছেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য