ফুলপুর হাসপাতালে রোগীর তুলনায় ডাক্তার ও জায়াগা নাই

ফুলপুর হাসপাতালে রোগীর তুলনায় ডাক্তার ও জায়াগা নাই

ফুলপুর হাসপাতালে রোগীর তুলনায় ডাক্তার ও জায়াগা নাই

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রোগী আছে, ডাক্তারের পদ শূন্য আছে, কিন্তু ডাক্তার- নার্স প্রয়োজন মতো নেই , নেই ব্লাড ব্যাংক, নেই জরুরী রোগীদেরকে অপারেশন করার জন্য অপারেশন থিয়েটার অতিরিক্ত  রোগীদের থাকার জায়গা, যেদিন বেশি পরিমাণ রোগী আসে সে দিন থাকতে হয় ফ্লোরের বারান্দায় কনকনে শীত বর্ষা ৬ ঋতুতেই। 

সরকারি ঔষধ যে পরিমাণে দেওয়া হয় হাসপাতালে তাও রোগীদের কে দিতে গেলে ২-৩ সপ্তাহের মাঝে শেষ হয়ে যায়। পরে আর কোন রোগীদেরকে ঔষধ দিয়ে সেবা দিতে পারেনা। তারপর রোগীদের বাহির থেকে কিনতে হয় অতিরিক্ত দামে ঔষধ । দূরের কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তারা ক'দিন ধরে ফ্লোরের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু কিছুই করার নেই এই ৫০শয্যা হাসপাতালে মাত্র বেড ৫০ টি তাও আবার অনেকগুলো নষ্ট ভাঙ্গা, ছাদ ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে সেই সাথে পড়ে পানি, আর টয়লেটে গেলে আরেকজনকে দরজায় ধার করে যেতে হয় কে না জানি ডুকে পরে । রোগী জায়গার তুলনায় বেশি তাই তাদেরকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ফ্লোরের বারান্দায়।  

চিকিৎসা সঠিক মত পেলেও সরকারি ওষুধ ঠিকমত পাচ্ছে না বলে জানান ওরা। জানা যায়, ১৯৮১ সালের স্থাপিত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে এই হাসপাতালে ফুলপুর- তারাকান্দা ২ উপজেলা মিলে ৪১ জন পদের ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৮জন কর্মরত আছেন। তার মাঝে ১জন হাসপাতলে ডেপুটেশনে গেছেন, ১জন জেলা কারাগারে চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত। আপর দিকে জুনিয়র কনসালটেন্ট (বিশেষজ্ঞ) ৫ জন, তার মাঝে ১ জন দন্ত (দাঁত) চিকিৎসক । বর্তমানে ২৭ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছেন। ফুলপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার প্রানেশ চন্দ্র পন্ডিত জানান, ফুলপুর-তারাকান্দা হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া ৪ উপজেলার রোগী ফুলপুর হাসপাতালে আসেন এবং আমরা তাদেরকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। তাই তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে মেঝে বারান্দা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভিতরে এত রোগী আছে বারান্দায় জায়গা দিয়েও কাজ হচ্ছে না বলে জানান তিনি। 

আর হাসপাতালে অবস্থা ভালো না, হাসপাতালটি বর্তমানে ঝুঁকিতে আছে। ১৯৮১ সালে হাসপাতাল তৈরির পর ২০১৫ সালে একবার এ হাসপাতাল মেরামত করা হয়েছে। এরপরে আর কোনদিন এই হাসপাতাল মেরামত করা হয়নি এখন হাসপাতালে ছাদের প্লাস্টার সহ বিভিন্ন দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ছে বলেও জানান তিনি। দৈনিক রোগী ভর্তি হয় ১৫০, আউটডোরে রোগী দেখা হয় ৫০০ বেশি। ৪১ জন ডাক্তারের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত ডাক্তার আছেন ১৩ জন তার মাঝে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছুটিতে থাকেন। আর যারা থাকেন তাদের নিয়েই রাত দিন পরিশ্রম করে পরিস্থিতির মোকাবেলা করি। আর যেদিন জেলা মিটিং থাকলে সেখানে প্রধান দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অনুপম ভট্টাচার্য ও আমি চলে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পরেন। আরোও বলেন, এই ৫০ শয্যা হাসপাতালে ১ মাসে রোগী ভর্তি হয় ১,৫০০টির বেশি। গত বছর (২০১৮)সালে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ১৮৭৭টি। বর্তমান(২০১৯সাল) চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ১৫১২টি। আর সিজারের জন্য প্রতিদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা (পাঠানো) হচ্ছে ১-২ জনেরও বেশী ডেলিভারি রোগী। আর বিভিন্ন ছোট/বড় অপারেশনের জন্য তো রোগী পাঠানো হচ্ছে প্রতিদিন । 

তিনি আরো বলেন যদি এই হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার খুলে দেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহলে প্রতিদিন এখন যে পরিমাণে রোগী দেখি তার চেয়েও বেশি পরিমাণে রোগী আসবে এই হাসপাতালে। ফুলপুরে ব্লাডব্যাংক, ১০০শয্যা হাসপাতাল, অপারেশন থিয়েটার ও ডাক্তারসহ অতিরিক্ত ঔষধ দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে সাধারণ মানুষের আকুতি। যদি উনি সহায় হন তাহলে শুধু ফুলপুর নয় আরো চারটি উপজেলার মানুষ বিভিন্ন চিকিৎসার সুবিধা পাবে আর জরুরি রোগীদেরকে অপারেশন বা সার্জারির জন্য মরতে হবে না রাস্তায় ।

পাঠকের মন্তব্য