আসুন, ভাবনাটা একটু বদলাই !  

আসুন, ভাবনাটা একটু বদলাই !  

আসুন, ভাবনাটা একটু বদলাই !  

সাংবাদিক হুমায়ুন কবির সূর্য : চারটে দিন ল্যাপটপ ছাড়া কাটালাম। বিশেষ একটা বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ পেয়ে সমৃদ্ধ হতে পেরে ভাল লাগছে। আমাদের সমাজে নারীদের পারিবারিক কাজগুলোর স্বীকৃতি দেয়া দরকার। ভোর থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত একজন গৃহবধূ প্রাণপাত করেও যখন শুনতে হয় তুমি কি করো! তখন সত্যি নারীর কষ্টটা পুরুষরা দেখতে পান না। 

ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসন মোছা, কাপড় কাঁচা, বিছানা ঠিকঠাক করা, তরকাটি কাটা, রান্না করা। খাবার পরিবেশন করা, এরমধ্যে কেউ ভাত খাবে, কেউবা রুটি। তরকারিও নানা পদের করতে হয়। এরপর ছেলে-মেয়েকে বিছানা থেকে উঠানো। তাদের গোসল, দাঁত ব্রাস থেকে খাবার খাওয়ানো। পড়াশুনা দেখা। স্কুলে পাঠানো। এরপর দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি গ্রহন। এতসব কাজ এক হাতে সামলানোর পরও নারীদের বলা হয়ে থাকে তোমরা কোন কাজ করো না। আবার কোন পুরুষ যদি নারীদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে তাহলে তাকে অপবাদ দেয়া হয় সে বউ ভারুয়া। বউয়ের গোলাম। দারুণ একটা সংকট। সমাজ, পরিবার, আমি, আপনি এটি ঠিক করে দিয়েছি। এমন কিছু কাজ আছে যা আপনার মা বা সহধর্মিনীকে হেল্প করতে পারে। যেমন-মশারী লাগানো, বিছানা ঠিকঠাক করা, শিশুকে ঘুম থেকে তোলা, তাদের দাঁত ব্রাস থেকে গোসল করানো। লেখাপড়া দেখা, স্কুলে পৌঁছে দেয়া ও আনা। খাবার তৈরী হলে সেগুলো টেবিলে সাজিয়ে দেয়া। ছেলেমেয়েকে নিজের জামা-কাপড় পরিস্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা। যদি নারীদের কাজের তালিকা করেন তাহলে অবাক হয়ে যাবেন একজন গৃহবধূ দিনে-রাতে কত ধরণের কাজ সম্পাদন করেন। নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে প্রতিটি পরিবারের এখন সিরিয়াসলি ভাবা উচিৎ। 

পুরুষের পাশাপাশি একজন স্ত্রীও যদি উদ্যোক্তা হিসেবে কোন কাজ শুরু করে তাহলে দুজনের আয়ে একটা সংসার সুন্দরভাবে চলতে পারে। তাহলে অভিযোগ অনেক কমে যাবে। পরিবারের বন্ধন অটুট থাকবে। একটু পজেটিভলি ভাবতে দোষ কি? আমাদের দেশে ছেলেরা যেমন মেয়েদের দেখতে যায়। আর মেয়েরা চায়ের ট্রে হাতে সামনে আসে। নেপালেও তেমনি ছেলেদের দেখতে মেয়েরা আসে। সেখানে ছেলেরা চায়ের ট্রে হাতে নিয়ে আসে। এটা ওখানকার সমাজ তৈরী করেছে। আমাদের উপজাতিদের মধ্যেও দেখা যায় নারীরা জুমচাষের কাজ করছে আর পুরুষরা গৃহস্থালি কাজ করে। প্রতিযোগিতার এই যুগে প্রতিটি মানুষ যদি আয়বর্ধণমূলক কাজে এগিয়ে আসে তাহলে এগিয়ে যাবে পরিবার। সেই সাথে দেশও। আসুন ভাবনাটা একটু বদলাই। আমরা না পারি আমাদের প্রজন্মরা শুরু করতে পারে তো !

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Humayun Kabir Surjo

পাঠকের মন্তব্য