কুতুবদিয়ার ইউএনও উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধার ভিটিতে ঘর তৈরী

কুতুবদিয়ার ইউএনও উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধার ভিটিতে ঘর তৈরী

কুতুবদিয়ার ইউএনও উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধার ভিটিতে ঘর তৈরী

দীর্ঘ ২৯ বছর পর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদের ভিটিতে সরকারি অর্থায়নে ঘর নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে কুতুবদিয়ার ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর। মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়ার বাসিন্দা।

১৯৯১ সনের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে সাগরে তলিয়ে যায়।  পরে অন্যত্রে একটি ভিটি করলেও সে সময়ে আর্থিক অনটনের কারণে নিজ ভিটিতে ঘর তৈরী করার সমর্থ ছিল না। ঐ সময় থেকে কক্সবাজার জেলা শহরে দক্ষিণ তারা বনিয়ারছড়া এলাকায় পাহাড়ের খাস জায়গায় কাঁচা ঘর তৈরী করে বসবাস করছেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা তালিকার সদস্য এবং তিনি কুতুবদিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ৩০ জুলাই ২০১৭ সনে মৃত্যু বরণ করেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কক্সবাজার জেলা শহরের দক্ষিণ তারা বনিয়ারছড়া কবরস্থানে দাপন সম্পন্ন হয় বলে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ্ছাফা বিকম।

মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদের পরিবারের করুণ দশার খবর পেয়ে কুতুবদিয়ার ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধার ভিটি দেখে আসেন। তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সরকারী অর্থায়নে মুক্তিযোদ্ধার নামে ঘর তৈরীর উদ্যেগ নেন বলে ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদের স্ত্রী মর্তুজা বেগম জানান,তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলেও তেমন অর্থ সম্পদ ছিল না। খুব কষ্টের মধ্যে সংসার চলে। তাদের সংসারে দুই ছেলে, তিন কন্যা। প্রথম সন্তান আনিচুল ইসলাম, সাতকানিয়া আল হেলাল ডিগ্রি কলেজের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক, দ্বিতীয় সন্তান তাফসিরুল হাবিব তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ইর্ন্টানি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট কন্যা হালিমা আহমেদ শোভা কক্সবাজার সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। আমেনা বেগম ও আফসানা আহমেদ দুই জনের বিয়ে হয়ে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ আমরা হয়তো শোধ করতে পারবনা। কিন্তু সে সকল বীর সেনানী বা তাদের পরিবারকে কোন সহযোগিতা করতে পারলে খুব ভালো লাগে, মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করি।

পাঠকের মন্তব্য