ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান খান

ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান খান

ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিয়াজী ও তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে অপসারণের এক দফা দাবিতে এবার সম্মিলিতভাবে দেশব্যাপী বিক্ষোভে নেমেছে বিরোধী পাক-রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই দাবির পক্ষে রাস্তায় নেমে এসেছে  হাজারো লোকজন। 

বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান খান। তাই এমন ভুয়া সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। যে কারণে ইমরান খানকে পদত্যাগের জন্য টানা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বিরোধীরা।

শনিবার (০২ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরায় প্রকাশিত এক সংবাদের তথ্য মতে, শুক্রবার (০১ নভেম্বর) রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় কয়েক হাজার সমর্থকের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিক্ষোভে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) সভাপতি শেহবাজ শরিফ পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
 
তিনি বলেছেন, ‘ভোটে কারচুপির মাধ্যমে ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছেন। যে কারণে এই ভুয়া সরকারকে এবার উৎখাতের সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত ইমরানকে কোনো শান্তি দেওয়া হবে না।’

এ সময় আন্দোলনের আয়োজক জামায়াতে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই) পার্টির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ‘ভোট কারচুপি করেই পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছেন তিনি। তাই এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত। নয়তো আমরাই তাকে উৎখাত করতে বাধ্য হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইমরান খান নেতৃত্বাধীন সরকার সম্পূর্ণই সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। আমরা তাকে এবং এই সরকারকে পদত্যাগের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটাম দিলাম।’

এদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উৎখাত করতে গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে শুরু হয় 'আজাদি মার্চ'। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেইউআই পার্টির আমির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। পরবর্তীতে আজাদি মার্চের এই মিছিলে একে একে শামিল হতে শুরু করে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) নেতারা। যার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) তারা ইমরান খান নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের সংকল্প নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমগুলোর দাবি, মিছিলটি যতই রাজধানীর অভিমুখে এসে পৌঁছচ্ছে ততই হাজার হাজার জনতা স্বেচ্ছায় এতে যোগ দিচ্ছেন।

অপর দিকে পাক পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সরকারবিরোধী এ প্রতিবাদী র‌্যালিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজারের অধিক লোক সমবেত হয়েছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নেতৃত্বাধীন সরকার এবারের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক সময় যাবতই এক রকম সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। যে কারণে দেশটিতে প্রায়শই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে এক ধরনের দা-কুমড়ো সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। গত ৭০ বছরের ইতিহাসে দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রীই সরকার গঠনের পর পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।

পাঠকের মন্তব্য