কুড়িগ্রাম জেলায় পরিত্যক্ত শতাধিক বিএস কোয়ার্টার !

কুড়িগ্রাম জেলায় পরিত্যক্ত শতাধিক বিএস কোয়ার্টার !

কুড়িগ্রাম জেলায় পরিত্যক্ত শতাধিক বিএস কোয়ার্টার !

কুড়িগ্রামে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য তিন দশক আগে নির্মিত শতাধিক পরিত্যক্ত কোয়ার্টার তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে এসব ভবনের দরজা-জানালাসহ নানা উপকরণ। কৃষি কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টার ব্যবহার না করায় দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব একতলা ভবন।

১৯৮৮-১৯৯৬ সালে কুড়িগ্রামে বন্টক সুপারভাইজর নামে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৫টি বিএস কোয়ার্টার নির্মিত হয়। একটি কোয়ার্টারে দুজন কর্মকর্তার থাকার কথা; কিন্তু নির্মাণের পর থেকে বন্টক সুপারভাইজর, বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টারে না থাকায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জঙ্গলে পরিণত কোয়ার্টারের দরজা-জানালা, ইটসহ নানা উপকরণ চুরি হয়ে যাচ্ছে। মলমূত্রের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এসব কোয়ার্টার। কোনো কোনো এলাকায় আগের মালিকরা পরিত্যক্ত ভবন দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজার ও ভেরভেরিতে অবস্থিত দুটি বিএস কোয়ার্টার ঘুরে দেখা গেছে, একতলা দুটি ভবনের জরাজীর্ণ ছাদ ও কিছু দেয়াল রয়েছে। খুলে নেওয়া হয়েছে দরজা-জানালার চৌকাঠ ও ইট। কোয়ার্টারের ভেতরে ঝোপ-জঙ্গলে পূর্ণ। রুমের মেঝেতে মলমূত্র ছড়িয়ে আছে। কোনো কোনো রুমে খড় রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীরা জানায়, মাঝে মধ্যে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায় এসব কোয়ার্টারে। নয়ারহাট বাজারের পাশের এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এই ভবন নির্মাণের পর থেকে কোনো কৃষি কর্মকর্তা ছিল না, এখনো নাই। নজরদারির অভাবে ভবনের দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে।’

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছে, কৃষি বিভাগের উদাসীনতা, অবহেলা আর গাফিলতির কারণে এসব ভবন দিনে দিনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে বলে মনে করে তারা।

ভেরভেরি বিএস কোয়ার্টারের পাশের বাসিন্দা আলম হোসেন বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই কোয়ার্টারে কেউ আসেনি। কৃষি বিভাগের অবহেলায় ভবনটি চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গেল।’ ভেরভেরি বন্টকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার বলেন, ‘কোয়ার্টার গুলোর দুরবস্থার কথা অফিসকে জানালেও সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিনে দিনে জরাজীর্ণ হয়ে ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম বন্টকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (সাবেক বিএস) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোয়ার্টার গুলো বসবাসের অনুপযোগী বলে পরিবার নিয়ে বাস করি না। তবে সরকার মাসিক ৫০ টাকা হারে ভাড়া কর্তন করে এখনো।’

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, ‘লোকজন না থাকলে তো ভবন নষ্ট হবেই। কোনো কোনো জায়গায় দেয়াল ভেঙে গেছে। আমরা চাহিদা দেওয়ার পরেও বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবনগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।’

পাঠকের মন্তব্য