মেয়র খোকন থেকে সকল জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা নেয়া উচিত

মেয়র খোকন থেকে সকল জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা নেয়া উচিত

মেয়র খোকন থেকে সকল জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা নেয়া উচিত

আমি মনে করি সকল জনপ্রতিনিধি এই ঘটনা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত।

যে বিষয়ে বলতে চাচ্ছি, ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়রের চোখের জল আর কান্না জড়িত বক্তব্যের কথা। নামটা বর্তমান সময়ে সবার জানা। তিনি সফল রাজনীতিবিদ, মেয়র(সাবেক) এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা জনাব হানিফ সাহেবের ছেলে।

স্বাভাবিকভাবেই জনগণ ভেবেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল এবং ভোট দিয়েছিল অত্যাধুনিক, উন্নত নাগরিক জীবনমান এবং সুন্দর নগর গড়বে। জনগণের , নেতা কর্মীদের সাথে সুযোগাযোগ সখ্যতা গড়ে উঠবে বর্তমান মেয়রের সাথে। কিন্তু ঘটনা নাকি অন্যরকম।

বর্তমান সময়ে জনগণের বক্তব্য ও সুর বদলে গেছে। তারা আর বর্তমান মেয়রকে চায় না।

জনগণের দাবি মেয়র সাহেব মেয়র হয়ে সম্পুর্ন বদলে গেছেন। তিনি তার অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি,অনেকাংশেই তিনি ব্যার্থ । তারকাছে দলের খুব কাছের নেতা কর্মীও কোন রাজনৈতিক আশ্রয় পাইনি।

এই বিষয়টি মেয়র বুঝতে পেরেছেন যে জনগণের জন্য আসলে তেমন কিছুই করতে পারেনি, জনগণ তাকে চায় না।এটা বুঝতে তার বহু সময় লেগেছে। যখন বুঝতে পেরেছেন তখন তার আর কিছু করার নেই।তবুও শেষ চেষ্টাটুকু করলেন। কেদে দিলেন আবেগতাড়িতভাবে, আবার সমর্থন চায়লেন,সুযোগ চায়লেন। কিন্তু পেলেন না।

এতবড় মাপের একজন রাজনীতিবিদের ছেলে যখন টেলিভিশনের পর্দায় মনোনয়ন এবং জনসমর্থনের জন্য কেদে ফেললেন তখন আমার খুব লজ্জা লেগেছিল এবং সাবেক সফল মেয়র হানিফ সাহেবের কথা ভেবে খুব কষ্টও পেয়েছি।

অথচ এমন হবার কথা ছিল : মেয়র বলবেন, আমি আমার চেয়ারে বসে আপনাদের জন্য যতটুকু সাধ্য ছিলো ততটুকু করার চেষ্টা করেছি।কিন্তু আমার মনে হয়েছে আমি সম্পুর্ন সুন্দর সিটি উপহার দিতে পারিনি। আমি আগামীতে আর এই চেয়ারে থাকতে চায় না। তখন জনগণ কান্নায় ফেটে পড়ে চিতকার করে বলবে আপনি সফল আপনাকেই আমরা মেয়ের হিসেবে আবার পেতে চাই। এমন পরিস্থিতিতে যদি মেয়র কাদতো তাহলে আমার খুব ভালো লাগতো।
কিন্তু শেষ চেষ্টা করে তিনি ব্যার্থ হলেন।মেয়র হতে পারছেন না।

এখন গিয়ে দেখেন মেয়রের পাশে, অফিসে, বাসার নিচে যারা সারাদিন ঘুরঘুর করত তারা এখন আর নেই। এটা রাজনৈতিক পরাজয়, এটাই বাস্তবতা।
আমাদের জনপ্রতিনিধিদের এই ঘটনা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত। ৫ টি বছর দেখতে দেখতেই চলে যায়। এই সময় ক্ষমতার মসনদে বসে রঙিন চশমা চোখে লাগিয়ে জনগণকে কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না।জনগণ কিন্তু সময়মত জবাব দিবে। যার বাস্তব প্রমাণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঘটনা।

জনপ্রতিনিধিদের উচিত জনগণের জন্য কাজ করা। তারা জনগণের সেবক,রক্ষক।এর চাইতে অন্য কিছু ভাবা যাবে না। জনগণের সাথে ভালো ব্যবহার, বিপদে পাশে দাড়ানো, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড করতে হবে। তবেই জনগণ পাশে থাকবে।জনপ্রতিনিধি বিদায় চাইলেও জনগণ বিদায় দেবে না।
জনগণ তার জন্য কাদবে,ভালোবাসবে পাশে থাকবে এমনভাবেই প্রতিনিধিত্ব করা উচিত।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Md.Abdus Samad

পাঠকের মন্তব্য