আমার নির্বাচন করাই উচিত হয়নি : সাইফুদ্দিন মিলন

আমার নির্বাচন করাই উচিত হয়নি : সাইফুদ্দিন মিলন

আমার নির্বাচন করাই উচিত হয়নি : সাইফুদ্দিন মিলন

দেশের রাজনীতিতে বিএনপির স্থান দখল করতে চান জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এরশাদের অবর্তমানে তার নেতৃত্বে জাপার ঘুরে দাড়ানোর কথাও বলছিলেন তিনি। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার নেতৃত্বে অংশ নেয় জাপা। উত্তর সিটিতে প্রার্থী দিলেও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। দক্ষিণে অংশ নিলেও ভরাডুবি হয়েছে লাঙলের।

ঢাকা দক্ষিণে মেয়রপ্রার্থী করা হয় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনকে। নির্বাচনী প্রচারে মাঠে ছিলেন তার দুই ছেলেও। মিলন ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। জাতীয় পার্টিকে পেছনে ফেলে তৃতীয় হয়েছে চরমোনাইপীরের ইসলামী আন্দোলন।

কিছু বিক্ষিপ্ত অভিযোগ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে সাইফুদ্দিন মিলনের মূল্যায়ন-  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন দক্ষিণ সিটিতে জাতীয় পার্টির একলাখের চেয়েও বেশি ভোট রয়েছে। তারপরও কেন লাঙলের এমন ভরাডুবি।

জানতে চাইলে মিলন বলেন, আমরা কেন্দ্রে ভোটারদের আনতে পারিনি। এটা আমরা কেন? আওয়ামী লীগ-বিএনপিও পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারি দল, তাদের সবস্তরের নেতাকর্মী মাঠে ছিল, কিন্তু তারা কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে হিসাব করেন। তারাও ভোটারদের আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপির অবস্থা আরো খারাপ। নির্বাচনী ফলাফলে বড় দুটি দলের এমন দৈন্যদশা। তাহলে আমাদের কী অবস্থা হবে সহজে অনুমেয়। নির্বাচনে মাত্র ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তার মানে কী? ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিতেই আসেনি। এ অবস্থায় লাঙলের পরাজয়কে বড় করে দেখার সুযোগ নাই।

তিনি অভিযোগ করেন, দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে তেমন সহযোগিতা করেনি। লাঙলের এমন ফলাফলের জন্য ভোটার আনতে না পারার সঙ্গে এটাও একটা বড় কারণ বলে মনে করেন মিলন। লাঙলের এই যে ফলাফল তা নিজের প্রচেষ্টার ফসল বলেও দাবি করেন মিলন।

‘‘দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ফোন করে খবর নিয়েছেন। মীর আব্দুস সবুর আসুদরা যতটুকু সম্ভব আমার সঙ্গে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা একটা ফোন পর্যন্ত করেননি। একটিবার খোঁজ নিলেন না। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ছিলেন না আমার সঙ্গে’ -বলেন মিলন।

জানা গেছে, দক্ষিণ সিটিতে জাতীয় পার্টির পক্ষে এবার মিলন নির্বাচনই করতে চাননি। কিন্তু চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও দলের মহাসচিব রাঙ্গাই তাকে একপ্রকার জোর করে নির্বাচনে নামিয়েছেন। এখন বাজে ফলাফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন জাপার এই নেতা। নির্বাচনের পর থেকে লালবাগের আমলিগোলার বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। তেমন কোথাও যাননি। আসেননি কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কিংবা জিএম কাদেরের বনানী অফিসেও। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কোনো কথা হয়নি তার।

মিলন বলেন, ‘আমার নির্বাচন করাই উচিত হয়নি। পরিবার পরিজনও সমর্থন করেনি। দলের লোকজন সহযোগিতা করবে না জেনে অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নির্বাচন করতে চাইনি। কিন্তু দলের স্বার্থে নির্বাচন করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তারপরও সান্ত্বনা পেতাম যদি দলের নেতাকর্মীরা আমার পাশে থাকতো, আমারও কিছুটা ভাল লাগতো।

নির্বাচনে লাঙলের এমন ভরাডুবিতে দলের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। তারা এজন্য নেতাদের দায়ী করে বিচারও দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্য ক্ষোভ ঝাড়ছেন নেতাকর্মীরা। এজন্য যারাই দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণের দুইজন দলীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় তারা প্রভাবশালীও। কিন্তু একমাত্র সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়া বাকী সাংসদের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন না। বরং তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করেন।

লাঙলের পরাজয় ও নেতাদের অসহযোগিতার বিষয়টি জানতে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দলের কো চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি এটা একটা বড় কারণ। তারপরও লাঙলের এমন ফলাফলের জন্য কারা দায়ী, আমাদের কোথায় গলদ, কী সীমাবদ্ধতা ছিল সবকিছু দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। তারপর ভবিষ্যত করণীয় ঠিক করা হবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে জানিয়ে হাওলাদার বলেন, অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও এবার তেমন কিছু হয়নি। নির্বাচন কমিশন ও আইন ‍শৃঙ্খলাবাহিনী যেভাবে কাজ করেছে এজন্য তারা প্রশংসার দাবিদার।

শনিবার অনুষ্ঠিত দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে শেখ ফজলে নূর তাপস ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ইশরাক হোসেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট পেয়েছেন। সুত্র-রাইজিংবিডি 

পাঠকের মন্তব্য