ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা : হল সুপারকে বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যহতি

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা : হল সুপারকে বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যহতি

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা : হল সুপারকে বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যহতি

বরিশালে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের হল সুপারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের ৪ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।  

মঙ্গলবার ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনা তদন্তে গঠিত বরিশাল জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটি বরখাস্ত ও অব্যহতির এই সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক কী কারণে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা হলো, তার প্রতিবেদন আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  

সাময়িক বরখাস্তকৃত হলেন- হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হল সুপার সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম এবং পরীক্ষার দায়িত্বে থেকে অব্যহতিপ্রাপ্তরা হলেন ঐ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাসুদা বেগম ও মো. সাইদুজ্জামান এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহানাজ পারভীন শিমু ও শেখ জেবুন্নেছা। এদের মধ্যে শেখ জেবন্নেছা ও মাসুদা বেগম এমপিওভূক্ত এবং শাহনাজ পারভীন শিমু ও মো. সাইদুজ্জামান খন্ডকালীন শিক্ষক বলে স্কুল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, ভুল প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ পৃথক দু'টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাসকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা নাসরিন। কমিটিকে পরবর্তী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাস। 

অপরদিকে, শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হয়েছেন বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আব্বাস উদ্দিন এবং দুই সদস্য হলেন বোর্ডের উপ-সচিব আব্দুর রহমান ও সেকশন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এই কমিটিকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস। 

প্রসঙ্গত, সোমবার এসএসসি’র প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো শিক্ষার্থী যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেই প্রতিশ্র“তি দেন। ঐ কেন্দ্রে নগরীর জগদিস সারস্বত গার্লস স্কুল সহ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

পাঠকের মন্তব্য